লোকসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল রাজ্যের সিভিক ভলেন্টিয়ারদের (Civic Volunteers) নাম। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ—নির্বাচন প্রক্রিয়ার কোনও সরাসরি কাজে বা বুথের নিরাপত্তায় সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ব্যবহার করা যাবে না।
কমিশনের কড়া নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে: ভোটের দিনগুলিতে বুথের ভেতরে তো বটেই, এমনকি বুথের ১০০ মিটারের চৌহদ্দিতেও কোনও সিভিক ভলেন্টিয়ার ডিউটি করতে পারবেন না। মূলত ভোট প্রক্রিয়ায় কোনও স্থানীয় প্রভাব বা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এড়াতেই এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একপ্রকার ‘অঘোষিত ছুটিতে’ই থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
কী কী করতে পারবেন না সিভিক ভলেন্টিয়াররা?
ইভিএম পাহারা: স্ট্রং রুম বা ইভিএম এসকর্ট করার কাজে কোনওভাবেই তাঁদের রাখা যাবে না।
কিউ ম্যানেজমেন্ট: বুথের লাইনে ভোটারদের সামলানোর কাজেও নিয়োগ করা যাবে না।
আইন-শৃঙ্খলা: সরাসরি কোনও স্পর্শকাতর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে তাঁদের উপস্থিতি নিষিদ্ধ।
কেন এই পদক্ষেপ? বিরোধী দলগুলি বারবার অভিযোগ তুলেছিল যে, সিভিক ভলেন্টিয়াররা সরাসরি শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করে। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে এবং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বদলে এবার শুধুমাত্র রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপরই ভরসা রাখছে কমিশন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের পুলিশের ওপর চাপ বাড়লেও, সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে এটি কমিশনের একটি মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখা হচ্ছে।





