“ভোটের চাপে অন্ধ হতে পারে না বিচারব্যবস্থা!” ভোটার তালিকা নিয়ে কমিশনকে বেনজির তোপ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির

২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশনকে কড়া প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি কমিশনের কাজের পদ্ধতি এবং স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলেন।

বিচারপতি বাগচির মূল প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ: বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, কেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই ভোটার তালিকায় ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপ্যান্সি’ (Logical Discrepancy) বা যৌক্তিক অসঙ্গতির মতো নতুন বিভাগ তৈরি করা হয়েছে? তিনি বিহারের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সেখানে এই ধরণের কোনো সমস্যা দেখা যায়নি, তাহলে বাংলাতেই কেন এমন বিভ্রাট?

শুনানির গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলি:

  • বৈষম্যের অভিযোগ: বিচারপতি বলেন, বিহারের ক্ষেত্রে কমিশন জানিয়েছিল ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে নতুন কোনো নথির প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাংলার ক্ষেত্রে সেই অবস্থান থেকে কেন সরে আসা হলো, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।

  • ভোটারের অধিকার: বিচারপতি বাগচি বলেন, “নিজের দেশে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধু সাংবিধানিক নয়, এটি একটি আবেগীয় বিষয় (Sentimental Right)।” ভোটাররা কোনোভাবেই দুই সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের (রাজ্য ও কমিশন) লড়াইয়ে বলির পাঁঠা হতে পারেন না।

  • বিচারবিভাগের সতর্কতা: তিনি সাফ জানান, সামনে নির্বাচন বলে বিচারব্যবস্থা তাড়াহুড়ো করে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বা ‘অন্ধ’ হয়ে যেতে পারে না। স্বচ্ছতা বজায় রাখাই আদালতের মূল লক্ষ্য।

  • আপিল ট্রাইব্যুনাল: লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার ঘটনায় বিচারপতি একটি ‘শক্তিশালী আপিল ব্যবস্থা’ বা অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যাতে কোনো যোগ্য ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।

কমিশনের সাফাই: পাল্টা যুক্তিতে কমিশনের আইনজীবী জানান, তথ্যে গরমিল বা নামের বানানে ভুল থাকার কারণেই এই ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপ্যান্সি’ তৈরি হয়েছে। তবে বিচারপতি বাগচি স্পষ্ট করে দেন যে, নাম বাদ দেওয়া বা অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি হতে না হয়।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান নির্বাচন কমিশনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করল। এখন দেখার, এই ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপ্যান্সি’র জটিলতা কাটিয়ে কতজন ভোটার শেষ পর্যন্ত বুথমুখী হতে পারেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy