‘ভোটের কৌশল চুরির ছক’! দিল্লিতে গর্জে উঠ তমসা, রণক্ষেত্র পার্লামেন্ট স্ট্রিট

আইপ্যাক (I-PAC) এবং তার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি (ED) তল্লাশির প্রতিবাদে এবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজধানী দিল্লি। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রকের সামনে নজিরবিহীন বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তৃণমূলের একঝাঁক সাংসদ। তাঁদের অভিযোগ, বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল এবং গোপন তথ্য ‘চুরি’ করতেই ইডি-কে লেলিয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, দিল্লি পুলিশ ডেরেক ও’ব্রায়েন ও মহুয়া মৈত্রদের আক্ষরিক অর্থেই ‘চ্যাংদোলা’ করে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

কেন এই ধরনা? ধরনায় সামিল হয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, কীর্তি আজাদ, সাকেত গোখলে, বাপি হালদার এবং প্রতিমা মণ্ডলের মতো শীর্ষ তৃণমূল নেতারা। তাঁদের সাফ দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই ভোটের আগে রাজনৈতিক তথ্য হাতাতে আইপ্যাক কর্তার বাড়িতে হানা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। মহুয়া মৈত্র পুলিশের বাধা পেয়ে গর্জে উঠে বলেন, “বিজেপিকে আমরা হারিয়েই ছাড়ব। একজন সাংসদকে কীভাবে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা দেশের মানুষ দেখুক।” ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও পাঁজাকোলা করে সরিয়ে দেয় পুলিশ, যা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়।

অভিষেকের কড়া বার্তা: দিল্লির এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক্স (X) হ্যান্ডলে পোস্ট করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপি-কে কটাক্ষ করে লেখেন, “এটাই বিজেপির ‘নিউ ইন্ডিয়া’, যেখানে প্রতিবাদীদের জেলে পাঠানো হচ্ছে আর অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। এজেন্সিকে হাতিয়ার করে ভোট বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। তবে বাংলা মাথা নত করবে না, আমরা শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়ব।”

বিজেপির পাল্টা তোপ: তৃণমূলের এই দিল্লি অভিযানকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূল বাংলার মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারবে না বলেই দিল্লিতে গিয়ে নাটক করছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ইডি-র তল্লাশিতে বাধা দিয়ে ফাইল কেড়ে নিয়েছেন, তা ভারতের ইতিহাসে নজিরবিহীন। দুর্নীতি আর তৃণমূল এখন সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে।” সব মিলিয়ে, আইপ্যাক কাণ্ডকে কেন্দ্র করে কলকাতা থেকে দিল্লি—রাজনীতির পারদ এখন ফুটছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy