পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক প্রাক্কালে বড়সড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পিছিয়ে পড়া এবং প্রান্তিক জনজাতিগুলোর আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫টি নতুন ‘উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পর্ষদ’ (Cultural and Development Board) গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। শুক্রবার (১৩ই মার্চ, ২০২৬) নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে সংহত করতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নবান্নের।
কাদের জন্য এই নতুন পর্ষদ? মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের নির্দিষ্ট পাঁচটি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এই পর্ষদগুলো গঠন করা হচ্ছে। এই পাঁচটি নতুন পর্ষদ হলো: ১. মুন্ডা (ST) উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পর্ষদ। ২. কোড়া (ST) উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পর্ষদ। ৩. ডোম (SC) উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পর্ষদ। ৪. কুম্ভকার (OBC) উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পর্ষদ। ৫. সদগোপ (OBC) উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক পর্ষদ।
উন্নয়নের নীল নকশা: এই পর্ষদগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ করা হবে। মূলত তাদের প্রথাগত অধিকার রক্ষা, বাসস্থানের ব্যবস্থা করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রসার এবং সংস্কৃতি রক্ষার জন্য এই পর্ষদগুলো কাজ করবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকার সবসময় পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে আছে। এই পর্ষদগুলো সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের নিজস্ব প্রতিনিধিরাই পরিচালনা করবেন, যাতে নিচুতলার মানুষের কাছে সরাসরি সরকারি সাহায্য পৌঁছাতে পারে।”
বিরোধীরা এই ঘোষণাকে ‘ভোটের গিমিক’ বলে কটাক্ষ করলেও, নবান্নের দাবি— প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। মূলত জঙ্গলমহল এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় এই পাঁচ সম্প্রদায়ের মানুষের উল্লেখযোগ্য প্রভাব রয়েছে, যা আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।