বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। বুধবার সিঙ্গুরের মাটি থেকে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের সূচনা করে রাজ্যবাসীকে বড় বার্তা দিতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কেবল ঘোষণা নয়, প্রকল্পের কাজ যাতে দ্রুত গতিতে শেষ হয়, তা নিশ্চিত করতে এবার কোমর বেঁধে নামল নবান্ন। মঙ্গলবার রাতে একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করে রাজ্যের ২৩টি জেলার তদারকির জন্য ২৩ জন শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কেন এই হঠাৎ তৎপরতা? নবান্ন সূত্রে খবর, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ এবং ‘পথশ্রী’-র মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি খতিয়ে দেখতেই এই শীর্ষ আধিকারিকদের মাঠে নামানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইএএস ও ডব্লিউবিসিএস (WBCS) আধিকারিকেরা সরাসরি জেলায় গিয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করবেন এবং কাজের গুণমান যাচাই করবেন। বিরোধীরা যখন নানা ইস্যুতে সরব, তখন উন্নয়নকেই হাতিয়ার করে মানুষের দুয়ারে পৌঁছাতে চাইছে তৃণমূল সরকার।
এক নজরে শীর্ষ আধিকারিকদের তালিকা (প্রারম্ভিক অংশ):
সরকারের এই নতুন বিন্যাসে কলকাতা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গ— সব জেলাকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকার বিশেষ কিছু নাম:
কলকাতা (দক্ষিণ): রাজেশ কুমার সিনহা (IAS)
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ওঙ্কার সিং মীনা (IAS)
হুগলি: অন্তরা আচার্য (IAS)
নদিয়া: পি বি সেলিম (IAS)
দার্জিলিং ও কালিম্পং: সৌমিত্র মোহন (IAS)
পুরুলিয়া: সঞ্জয় বনসল (IAS)
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বার্তা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিঙ্গুর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী বোঝাতে চাইছেন যে তাঁর সরকার কেবল প্রকল্প ঘোষণা করে না, তা বাস্তবায়নও করে। এই ২৩ জন আধিকারিককে কার্যত ‘পর্যবেক্ষক’ হিসেবে পাঠিয়ে উন্নয়নের চাকাকে আরও গতিশীল করতে চাইছে রাজ্য সরকার। নবান্নের নির্দেশে বলা হয়েছে, এই আধিকারিকদের অবিলম্বে তাঁদের নির্ধারিত জেলায় পৌঁছে কাজ শুরু করতে হবে।
সিঙ্গুরের আজকের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কী কী ঘোষণা করেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।