২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে ঘরের ক্ষোভ ঘরেই মিটিয়ে নিতে মরিয়া কোচবিহারের তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা। সাধারণ নাগরিকদের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে এবার চালু হলো বিশেষ ‘টক-টু-চেয়ারম্যান’ (Talk to Chairman) পরিষেবা। মূলত পুর পরিষেবা নিয়ে মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রশমন করতেই পুরসভার এই পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নির্দিষ্ট সময়ে ফোন করলেই মিলবে খোদ চেয়ারম্যানের সরাসরি সমাধান।
বিগত লোকসভা এবং বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে কোচবিহার শহরের একাংশে নাগরিক ক্ষোভ স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল। বিশেষ করে জঞ্জাল পরিষ্কার, পানীয় জল এবং রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে অনেক ওয়ার্ডেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। সেই ক্ষত মেরামতি করতেই এবার সরাসরি জনতার দরবারে পুর প্রশাসন। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট সময়ে নাগরিকরা ফোন করে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন চেয়ারম্যানকে। যা তৎক্ষণাৎ নথিভুক্ত করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
তবে তৃণমূলের এই উদ্যোগকে ‘ভোটের আগে নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, দীর্ঘ পাঁচ বছরে কোনো কাজ হয়নি, এখন নির্বাচনের মুখে মানুষের ক্ষোভ দেখে তৃণমূলের গদি টলমল। তাই ‘টক-টু-চেয়ারম্যান’-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পরিষেবা আরও দ্রুত এবং স্বচ্ছ করতেই এই উদ্যোগ। বিজেপি সব কিছুতেই রাজনীতি খুঁজে পায়। ২০২৬-এর আগে কোচবিহারের মসনদ কার দখলে থাকবে, তার অনেকটা নির্ভর করছে এই নাগরিক ক্ষোভ মেটানোর ওপরই।