নির্বাচন দোরগোড়ায়, আর তার আগেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে অবস্থিত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর। মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের সংঘাত বুধবার আরও চরম আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা (পুরানো ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে সিইও দপ্তরের প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা।
ঘটনার সূত্রপাত ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা ‘ফর্ম ৬’ জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা অবৈধভাবে কয়েক হাজার ফর্ম ৬ জমা দিয়ে উত্তর প্রদেশ ও বিহারের ‘বহিরাগত’দের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা করছে। বুধবার দুপুরে এক ব্যক্তিকে কয়েকশো ফর্মসহ ধরে ফেলে তৃণমূল-পন্থী বিএলও (BLO) সংগঠনের সদস্যরা। এরপরই দু-পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ইটবৃষ্টি শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কলকাতা পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং মোতায়েন করা হয় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী।
সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, দপ্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দপ্তরের ভেতরে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ভিড় জমানোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। ভোটার তালিকায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে স্ট্র্যান্ড রোড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং গোটা চত্বর কার্যত পুলিশি দুর্গে পরিণত হয়েছে।





