২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে বাংলার আকাশে-বাতাসে এখন একটাই শব্দ— ‘সার’ (SR)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, ঠিক তখনই ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উপলক্ষে যুযুধান দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে গেল দেশ। একদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন নির্বাচন কমিশনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, অন্যদিকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কমিশনকেই ‘বিজেপির ভৃত্য’ ও ‘গণতন্ত্রের ঘাতক’ বলে তোপ দাগলেন।
রবিবার জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করার জন্য নির্বাচন কমিশনের নিরন্তর প্রয়াসকে আমি সাধুবাদ জানাই।” ভোটার হওয়াকে ‘সবচেয়ে বড় অধিকার ও দায়িত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করে মোদী তরুণ ভোটারদের উৎসাহ দেওয়ার ডাক দিয়েছেন। তাঁর মতে, আঙুলের না-মোছা কালি আসলে ‘উন্নয়নের যাত্রার ভাগ্য বিধাতা’ হওয়ার প্রতীক। এমনকি প্রথমবার ভোট দেওয়াকে জন্মদিনের মতো উৎসব হিসেবে পালন করার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর এই ‘উৎসবের’ মেজাজকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় লিখেছেন, “কমিশন জাতীয় ভোটার দিবস পালন করছে, যা এক করুণ প্রহসন। ‘হিজ মাস্টর্স ভয়েস’ হিসেবে কমিশন মানুষের ভোটাধিকার লুণ্ঠন করতে ব্যস্ত।” মমতার সরাসরি অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিজেপি বিরোধীদের ধ্বংস করতে চাইছে এবং কমিশন তাতে মদত দিচ্ছে।
তৃণমূল নেত্রীর সুরেই সুর মিলিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ভোট চুরি’ এবং অপরিকল্পিত ‘সার’ (SIR)-এর মাধ্যমে গণতন্ত্রকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে। খাড়গের দাবি, নির্বাচন কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এখন প্রবল চাপের মুখে, তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা সংশোধনের এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ২০২৬-এর যুদ্ধের দামামা আজ আরও স্পষ্ট হয়ে বাজল।