ভোটার তালিকা সংশোধনে নতুন নিয়ম! বিহারের মডেল অনুসরণ, এই নথিগুলো না থাকলে সমস্যায় পরবেন

আসন্ন ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি হিসেবে বিহারের মডেল অনুসরণ করতে বলা হয়েছে রাজ্যের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্ট্রোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO)-দের। নির্বাচন কমিশন ইঙ্গিত দিয়েছে যে অক্টোবরেই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল মঙ্গলবার একটি অনলাইন প্রশিক্ষণে জেলাশাসকদের জানান, ‘SIR’-এর জন্য প্রয়োজনীয় ভোটার এনুমারেশন ফর্মগুলো এবার জেলাতেই ছাপাতে হবে। কারণ, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৭ কোটি ৬৫ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। প্রত্যেক ভোটারের জন্য দুটি করে ফর্ম ছাপাতে হলে মোট ১৫ কোটি ৩০ লক্ষ ফর্মের প্রয়োজন হবে। এত বিপুল সংখ্যক ফর্ম কেন্দ্রীয়ভাবে ছাপিয়ে সময়মতো বিতরণ করা সম্ভব নয়। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিইও জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন, এই বিপুল সংখ্যক ফর্ম ছাপানোর জন্য এখনই এক বা একাধিক ছাপাখানা চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি, নিরাপত্তার দিকটিও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে, যাতে কমিশন অনলাইনে ফর্ম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা ছাপিয়ে বিলি করা যায়। কোনো জেলা এই কাজ করতে না পারলে রাজ্য থেকে সাহায্য করা হবে।

এই প্রশিক্ষণে জানানো হয়েছে যে, যদি কোনো ভোটারের বা তার বাবা-মায়ের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকে, তাহলে তা উল্লেখ করলেই হবে। আর যদি না থাকে, তাহলে পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে আধার কার্ড দেখানো যেতে পারে। তবে, নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য বিহারে যে ১১টি নথির কথা বলা হয়েছে, তার যেকোনো একটি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কমিশন যদি ‘SIR’-এর বিজ্ঞপ্তির সময় নতুন কোনো নির্দেশিকা জারি করে, তাহলে সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সমস্ত ফর্ম জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নথি-সহ সমস্ত তথ্য কমিশনের পোর্টালে আপলোড করতে হবে। এরপর ERO এবং AERO-রা এই তথ্য যাচাই করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবেন। সমস্ত বুথ লেভেল অফিসারদের (BLOs) ফর্ম বিতরণ ও সংগ্রহের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ERO এবং AERO-রা যেন ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজ নিজ বিধানসভা কেন্দ্রের BLO-দের এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।