যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজ। আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই SIR-এর খসড়া তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। কোনও যোগ্য নাগরিক যেন বাদ না পড়েন এবং কোনও অযোগ্য ব্যক্তি যেন তালিকায় থেকে না যান, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রক্রিয়া চলছে। এর লক্ষ্য— নির্ভুল এবং জালিয়াতিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা।
এই প্রক্রিয়ার মাঝেই রাজ্যে ভোটার তালিকা নিয়ে চলছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
৫৬ লক্ষের বেশি নাম বাদের তালিকায় চিহ্নিত
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, SIR প্রক্রিয়ায় এখনও পর্যন্ত মোট ৫৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৭৩১ জনের নাম বাদের তালিকায় চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে:
মৃত ভোটার: প্রায় ২৩ লক্ষ ৯৮ হাজার ৩৪৫ জন।
স্থানান্তরিত (শিফ্টেড): প্রায় ১৯ লক্ষের বেশি।
সন্ধানহীন (আনট্রেসেবল): প্রায় ১০ লক্ষের বেশি।
অন্যান্য: প্রায় ৪৬ হাজার ৮৩২ জন।
অর্থাৎ, এই চিহ্নিত হওয়া সংখ্যা প্রায় ৯৭ লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছেছে। কমিশন মনে করছে, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
২২০৮ থেকে মাত্র ২ টি ‘মৃত্যুহীন বুথ’
ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রথম দিকে জানা গিয়েছিল, রাজ্যের ২ হাজার ২০৮টি বুথে কোনও মৃত, স্থানান্তরিত বা ডুপ্লিকেট ভোটারের খোঁজ মেলেনি। এই অবাক করা তথ্য সামনে আসার পরই নির্বাচন কমিশন নড়েচড়ে বসে রিপোর্ট চায়।
কমিশনের ক্রমাগত ভুল-ত্রুটি শুধরে নেওয়ার প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ, সেই ২,২০৮টি বুথ কমতে কমতে দ্বিতীয়বার ৪৮০, তৃতীয়বার ২৯, চতুর্থবার ৭ এবং বর্তমানে মাত্র ২ টি বুথে এসে দাঁড়িয়েছে। এই দুটি ‘মৃত্যুহীন’ বুথ রয়েছে শুধুমাত্র হাওড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়।
রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে
২২০৮টি বুথে ‘আন-কালেক্টবল’ ফর্মের বিষয়টি সামনে আসতেই বিজেপি নেতারা রাজ্যের শাসকদলকে তীব্র খোঁচা দিতে শুরু করেন।
বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ কটাক্ষ করে বলেন, “যদি কেউ মরতে না চান, যদি সারাজীবন বেঁচে থাকতে চান, তাহলে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসুন। ২০০০-এর উপর বুথে কোনও মৃত্যু হয়নি, কেউ অন্য কোথাও যায়নি, এটাই হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। অদ্ভুত এক ভূতুড়ে জায়গা। আর জেলা প্রশাসন হচ্ছে গেছো ভূত।”
বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, “এটা আমাদের পিসি সরকারের ম্যাজিক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সব মানুষকে বলব, নিজের নিজের জেলায় যে বুথে কেউ মারা যায়নি, সেই বুথে ভোটার তালিকায় নাম লেখান। যাতে কেউ মারা না যান। ওখানে গেলে আপনারা অমরত্ব লাভ করবেন।”
পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি তৃণমূল। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “এগুলো ওদের বাহানা। জানে ওখানে হেরে যাবে… সব জায়গায় বাংলায় হারবে। এগুলো নিয়ে বাহানা করছে।”