ভোটার তালিকায় সফটওয়্যার কারচুপির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তুললেন রাহুল!

ভোটার তালিকায় অনিয়মের তদন্ত করতে গিয়ে ‘গোখরোর’ সন্ধান পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এতদিন ধরে তিনি যে ‘হাইড্রোজেন বোমা’ ফাটানোর কথা বলছিলেন, বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, এটা তার প্রথম ধাপ মাত্র। তার অভিযোগ, একটি সফটওয়্যার ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই ভোট চোরদের রক্ষা করছেন। তিনি দাবি করেন, এই অভিযোগের পক্ষে তার কাছে ১০০ শতাংশ প্রমাণ রয়েছে।
রাহুল গান্ধী তার অভিযোগ প্রমাণ করতে কর্ণাটকের আলন্দ বিধানসভা কেন্দ্রের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেখানে ৬,০১৮ জন ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই জালিয়াতি তখনই ধরা পড়ে যখন এক বুথ-স্তরের আধিকারিক জানতে পারেন যে তার নিজের কাকার নামও তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
রাহুলের দাবি, এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সারা দেশে লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, এর মূল লক্ষ্য হলো বিরোধী দলগুলির ভোটব্যাঙ্ক দুর্বল করা, এবং বিশেষ করে দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু ও ওবিসি ভোটারদের নিশানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা এতদিন শুধু শুনেছি, কিন্তু এখন হাতে ১০০ শতাংশ প্রমাণ এসেছে যে বিরোধী ভোটারদের টার্গেট করা হচ্ছে।”
এই অভিযোগের জন্য রাহুল গান্ধী সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, ভোট চুরিতে জ্ঞানেশ কুমার সরাসরি মদত করছেন এবং নির্বাচন কমিশন এই জালিয়াতি সম্পর্কে সবটা জানে। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন সেইসব মানুষদের আড়াল করছে, যারা ভারতীয় গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।”
রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনকে এক সপ্তাহের মধ্যে কর্ণাটকের সিআইডিকে সমস্ত তথ্য প্রমাণ সরবরাহ করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় প্রমাণিত হবে যে কমিশন অপরাধীদেরই আড়াল করছে। তিনি আরও বলেন, কমিশনের ভেতর থেকেও এখন তাদের কাছে খবর আসা শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পাল্টা জবাবে বিজেপি রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তিকে ব্যবহার করে ‘ভোট চুরির’ গল্প সাজানোর অভিযোগ তুলেছে।