ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম, তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য, রাজ্যে এসআইআর-এর ইঙ্গিত

দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রের ভিত্তিতে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি মামলার শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশন (EC) জানিয়েছে যে, তারা রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা কার্যকর করতে চলেছে। এই প্রক্রিয়া রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে ভুয়ো নাম বাদ দিতে সাহায্য করবে।
মামলার সূত্রপাত
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৭ মে, যখন কাকদ্বীপের অ্যাসিস্ট্যান্ট সিস্টেম ম্যানেজার অরুণ গড়াইকে ভুয়ো ভোটারের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়। অভিযোগ, তিনি অবৈধভাবে সিস্টেমে লগ-ইন করে অযোগ্য ভোটারদের নাম ঢুকিয়েছিলেন। তিনি নিজে দোষ স্বীকার করলেও দাবি করেন যে, এর পেছনে একটি বড় চক্র কাজ করছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ
গত ২০ আগস্ট বিচারপতি অমৃতা সিনহা নির্বাচন কমিশনকে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিচারপতির নির্দেশ মেনে এদিন রিপোর্ট পেশ করে কমিশন, যেখানে তারা এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানায়। যদিও বিচারপতি এই মুহূর্তে এই বিষয়টি মামলার সঙ্গে প্রাসঙ্গিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন, তবে তিনি এসআইআর প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ১১ নভেম্বর পর্যন্ত অভিযুক্ত অরুণ গড়াইয়ের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না এবং তাকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
ভুয়ো শংসাপত্রের অভিযোগ
অরুণ গড়াই আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি নাগরিকদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। তার আইনজীবী দাবি করেন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েতে অনলাইনে কয়েক হাজার ভুয়ো জন্ম ও মৃত্যুর ডিজিটাল শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই সব অভিযোগ এসআইআর প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হবে। এর জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে বুথ লেভেল এজেন্টের (BLA) নামও চাওয়া হয়েছে।