চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই শোকের ছায়া কামারহাটিতে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো বিএলও তথা স্কুল শিক্ষক মহম্মদ তাহিরের (৫৫)। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নিজের নাম ‘বিচারাধীন’ বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ দেখে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষোভ এবং এসআইআর-এর অতিরিক্ত কাজের চাপই এই অকাল মৃত্যুর কারণ বলে দাবি করা হচ্ছে।
কামারহাটি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহম্মদ তাহির স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তিনি কামারহাটি বিধানসভার ৬৯ নম্বর বুথের বিএলও এবং ৫৭ থেকে ৬৪ নম্বর বুথের সুপারভাইজারের দায়িত্বে ছিলেন। পরিবারের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নামের পাশে ‘বিচারাধীন’ লেখা দেখে তিনি ভেঙে পড়েন। নিহতের আত্মীয় নিজামুদ্দিনের অভিযোগ, “বুথ থেকে অনেকের নাম বাদ যাওয়ায় ওঁকে ফোনে গালিগালাজ করা হচ্ছিল। সেই চাপ নিতে না পেরেই ওঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।”
ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে যান কামারহাটি টাউন তৃণমূল সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, “উনি সুস্থই ছিলেন, কিন্তু ভোটার তালিকায় নিজের স্ট্যাটাস দেখে চাপে পড়ে গিয়েছিলেন।” উল্লেখ্য, এবারের ভোটার তালিকায় খোদ বিডিও থেকে শুরু করে বিধায়ক—অনেকের নামই ‘বিচারাধীন’ বা বাদ পড়ার তালিকায় থাকায় রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। মহম্মদ তাহিরের মৃত্যু সেই বিতর্কে এক করুণ মাত্রা যোগ করল।