এসআইআর (SIR) বা বিশেষ সমন্বিত সংশোধনীর ফর্ম জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়াল নির্বাচন কমিশন। এর আগে সময়সীমা ছিল ৪ ডিসেম্বর, যা বাড়িয়ে ১১ ডিসেম্বর ধার্য করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত সাত দিনে ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল করার জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সব জেলাশাসককে ৯ দফা নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। এই নির্দেশিকার ফলে বিএলও (BLO) এবং ইআরও (ERO)-রা বাড়তি সময় পেলেও কাজে কোনও শৈথিল্য চলবে না।
ভোটার তালিকা নির্ভুল করতে কমিশনের ৯টি কড়া নির্দেশ:
১. ফর্ম আপলোড: বিএলও-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাঁদের কাছে থাকা সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম আপলোড করতে হবে। ২ ডিসেম্বরের পরে জমা হওয়া কোনও এনুমারেশন ফর্ম আর গ্রহণ করা হবে না। ২. অসংগ্রহযোগ্য ফর্ম: ১১ ডিসেম্বরের পরে কোনও বাড়ি থেকে ফর্ম জমা নেওয়া হলে, অ্যাপে সেগুলিকে ‘uncollectable’ বা অসংগ্রহযোগ্য হিসেবে দেখাতে হবে। ৩. বয়স যাচাই (পরিবারের প্রধান): যে সব ভোটার নিজেকে পরিবারের প্রধান বলে দাবি করেছেন, তাঁদের যাচাই করতে হবে যে ২০০২ সালে তাঁদের বয়স ৬০ বা তার বেশি ছিল কি না। ৪. বয়স যাচাই (নতুন ভোটার): ২০২৫ সালে কোনও ভোটারের বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি হলে, তাঁকে বিশেষভাবে জিজ্ঞাসা করতে হবে যে ২০০২ সালে বয়স ২৫ বছর বা তার বেশি হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ছিল না। ৫. পিতা-পুত্রের বয়সের ফারাক: বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ফারাক ৪৫ বছরের বেশি অথবা ১৮ বছরের কম হলে, সেই এন্ট্রিগুলি ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। ৬. স্পর্শকাতর বুথ: ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে যে সব বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেগুলিতে জমা পড়া ফর্মগুলি বিশেষভাবে স্ক্রুটিনি করতে হবে। ৭. ম্যাপিং যাচাই: যে সব বুথে বাবা, মা ও সন্তানের ম্যাপিং ৫০ শতাংশের বেশি (অর্থাৎ ২০০২ ও ২০২৫-এর তালিকায় বাবা-মা ও সন্তানের নাম আছে), সেখানে আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ৮. মৃত ব্যক্তির তথ্য বাদ: মৃত ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহের জন্য জন্ম-মৃত্যুর নথি এবং বাতিল হওয়া রেশন কার্ডের তথ্য ব্যবহার করতে হবে। ইআরও-দের এই তথ্য যাচাই করে তালিকা থেকে মৃতদের নাম বাদ দেওয়ার পাশাপাশি বিএলও-দের ভুল এন্ট্রিও সংশোধন করতে হবে। ৯. বিএলও-দের পারফরম্যান্স: যে সব বুথে ০ থেকে ২০টি ‘আনকালেকটেবল’ ফর্ম রয়েছে, সেখানে বিএলও-রা সঠিকভাবে এন্ট্রি করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।