‘ভোটার কার্ডে পদবি মণ্ডল, তালিকায় মোল্লা,’ এসআইআর আতঙ্কে জীবন শেষ করলেন বৃদ্ধ! দক্ষিণ দিনাজপুরে তুলকালাম

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এসআইআর (SIR – System for Identity Registration) সংক্রান্ত আতঙ্কে এক বৃদ্ধের জীবন শেষ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মৃত ব্যক্তির নাম ওছমান মণ্ডল (৬৫), তিনি কুমারগঞ্জ থানার আগাছা এলাকার বাসিন্দা। এই ঘটনা ঘিরে জেলার রাজনীতিতে তীব্র তরজা শুরু হয়েছে।

মৃতের পরিবার এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকেই ওছমান মণ্ডল মানসিকভাবে চরম অস্থিরতা ও আতঙ্কে ভুগছিলেন। এর জেরেই তিনি সোমবার গভীর রাতে চরম পদক্ষেপ করেন।

পদবি বিভ্রাটই আতঙ্কের কারণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওছমান মণ্ডলের ভোটার কার্ডে পদবি ‘মণ্ডল’ থাকলেও ভোটার তালিকায় তা ভুলবশত ‘মোল্লা’ হিসেবে লেখা ছিল। এই পদবি বিভ্রাট নিয়ে তিনি অত্যন্ত আতঙ্কিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই সমস্যার সমাধানে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও আশ্বস্ত হতে পারেননি।

মৃতের আত্মীয় গোলাম মণ্ডল বলেন, “এসআইআর আতঙ্কেই তিনি মারা গিয়েছেন। তাঁর ভোটার কার্ডে মণ্ডল থাকলেও ভোটার তালিকায় মোল্লা রয়েছে। এই আতঙ্কেই গতকাল গভীর রাতে তিনি জীবন শেষ করে দেন।” অপর আত্মীয় মহাসনা বিবির দাবি, পাঁচ বছর ধরে তিনি এই সমস্যা নিয়েই চিন্তিত ছিলেন।

রাজনৈতিক তরজা ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ: ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় তৃণমূল নেতারা ঘটনাস্থলে আসেন এবং মৃতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। স্থানীয় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি আনিসুর রহমান অভিযোগ করেন, “এসআইআর আতঙ্কেই উনি জীবন শেষ করে দিয়েছেন। কেন্দ্র সরকার একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যার ফলেই আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। আজকের এই মৃত্যুর দায় সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীকে নিতে হবে।” তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা চেয়ারম্যান নিখিল সিংহ রায়ও কেন্দ্রীয় সরকারের তড়িঘড়ি এসআইআর করানোর চেষ্টার সমালোচনা করেন।

যদিও তৃণমূলের এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি সরকার বলেন, “যে কোনও মৃত্যু দুঃখজনক। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস যেখানেই মৃত্যু ঘটছে, সেখানেই এসআইআর বলে বদনাম করার চেষ্টা করছে, মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে। যেখানে তাঁর ও পরিবারের সকলের নাম ভোটার তালিকায় আছে, সেখানে আতঙ্ক কেন? কী কারণে মৃত্যু তা খতিয়ে দেখা দরকার।”

কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ বৃদ্ধের দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে।