ভোটাভুটি এড়াল দুই তৃণমূল! বিধানসভায় পিএসি (PAC)-র সদস্য পদের জন্য জমা পড়ল ৬ বিধায়কের নাম

রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরের খরচ এবং ক্যাগ (CAG) রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখার মূল দায়িত্ব থাকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি বা পিএসি (PAC)-র কাঁধে। প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই এই কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিধানসভার প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী, ২০ সদস্যের এই কমিটিতে ছ’জন সদস্য থাকেন বিরোধী দলের বিধায়ক এবং তাঁদের মধ্য থেকেই একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। এবার সেই পিএসি-র সদস্যপদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটাভুটির জোরালো আশঙ্কা তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত তা এড়াতে সক্ষম হল বিরোধী শিবির।

কার কার নাম জমা পড়ল?

বর্তমানে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত—একটি ‘ঋতব্রত শিবির’ এবং অন্যটি ‘কালীঘাট শিবির’। দুই শিবিরের পারস্পরিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে পিএসি সদস্য নির্বাচন ঘিরে ভোটাভুটির প্রবল সম্ভাবনা ছিল। তবে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে ভোটাভুটি ছাড়াই বিরোধী শিবিরের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় ছ’জন বিধায়কের নাম জমা দেওয়া হয়েছে।

সংখ্যার দিক থেকে এক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ঋতব্রত শিবির। তাদের তরফ থেকে মোট পাঁচজন বিধায়কের নাম জমা পড়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন:

  • ফিরহাদ হাকিম ওরফে ববি

  • বিপ্লব মিত্র

  • গোলাম রব্বানি

  • কানাইয়ালাল আগরওয়াল

  • সমর মুখোপাধ্যায়

অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র বর্ষীয়ান বিধায়ক অশোক দেবের নাম জমা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, বিধানসভার রীতি মেনেই শাসকপক্ষ বিজেপির তরফ থেকে ১৪ জন সদস্যের নাম জমা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন অনুপকুমার সাহা, অম্লান ভাদুড়ি, বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ, হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, রাজেশ কুমার, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, সৈকত পাঁজা, সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ, শিখা চট্টোপাধ্যায়, সোনম লামা, সৌরভ সিকদার, সুব্রত ঠাকুর এবং স্বপনকুমার দাস।

কার হাতে উঠবে পিএসি-র নেতৃত্ব?

নাম জমা পড়ার পর্ব মিটে যাওয়ার পর এখন সকলের নজর রয়েছে চূড়ান্ত চেয়ারম্যান পদের দিকে। বিধানসভার বাদল অধিবেশনের শেষ দিন অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বোস পিএসি-র চেয়ারম্যানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিগত কয়েক বছর ধরে পিএসি চেয়ারম্যান পদ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে। খাতায়কলমে বিরোধী শিবিরের বিধায়ক হলেও অতীতে মুকুল রায়, কৃষ্ণ কল্যাণী কিংবা সুমন কাঞ্জিলালের মতো নেতারা শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই এই দায়িত্ব সামলেছেন। তবে এবার সেই ট্র্যাডিশন ভেঙে এমন কেউ এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন, যিনি বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে প্রকৃত অর্থেই বিরোধী দলের মুখ। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত কার মাথায় এই পদের দায়িত্ব ওঠে।