কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক নিয়ে বড়সড় বিড়ম্বনায় বঙ্গ-বিজেপি। ভোটার তালিকায় ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা ‘সার’ (SIR) নিয়ে মতুয়া সমাজের উৎকণ্ঠা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই দিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি যা বললেন, তাতে মতুয়াদের ভয় কমার বদলে আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
রাষ্ট্রপতি ভবনে কি হলো আলোচনা? মতুয়া প্রতিনিধিদের নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর শান্তনু ঠাকুর দাবি করেন, নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তাঁর কথায়, “ভোটাধিকারের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে বলে কিছু হবে বলে আমি মনে করি না। তাই এটা নিয়ে কথা হয়নি।” বনগাঁর সাংসদের এমন মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— তবে কি কাজের কাজ কিছুই হলো না? যদিও শান্তনু জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী মাসে রাষ্ট্রপতিকে ঠাকুরনগরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপির কৌশল ও তৃণমূলের তোপ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে রাষ্ট্রপতির আশ্বাস খুব একটা ইতিবাচক না হওয়াতেই শান্তনু সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। এর পাল্টা আক্রমণে তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর বলেন, “বিজেপি বুঝতে পেরেছে মতুয়ারা আর তাদের সঙ্গে নেই। লোক দেখাতে রাষ্ট্রপতির কাছে দরবার করা হচ্ছে। যাঁদের ভোটে জিতে শান্তনু মন্ত্রী হয়েছেন, আজ তাঁদেরই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ফন্দি আঁটছেন তিনি।”
শুভেন্দুর ‘সুরক্ষা’ বার্তা দিল্লিতে যখন শান্তনু রাষ্ট্রপতির দরবারে, তখন বনগাঁয় মতুয়াদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে ছোটেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আশ্বাস দেন, “প্রধানমন্ত্রীর ওপর ভরসা রাখুন। আপনারা সুরক্ষিত। সিএএ-তে আবেদনের যাবতীয় দায়িত্ব আমার।” এমনকি ঠাকুরবাড়ি থেকে দেওয়া নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট ভারত সরকার গ্রহণ করছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও মমতাবালা ঠাকুর পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, শান্তনুর দেওয়া সার্টিফিকেট কি আইন মেনে বৈধ করা হয়েছে? সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় উত্তর ২৪ পরগনার মতুয়া গড় এখন উত্তাল।