মধ্যপ্রাচ্যে কি তবে শান্তির আশা শেষ? ইরান ও পশ্চিমি দেশগুলোর মধ্যে পরমাণু চুক্তি (Nuclear Deal) নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, তা এখন খাদের কিনারায়। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি বা নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম নিয়ে তারা একচুলও নড়বে না। ইরানের এই অনড় অবস্থানের ফলে বর্তমানে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ইরানের কড়া বার্তা: ইরানি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব এবং প্রতিরক্ষা স্বার্থ রক্ষায় পরমাণু গবেষণা চালিয়ে যাওয়া তাদের অধিকার। পশ্চিমি দেশগুলো এবং আমেরিকা যতই নিষেধাজ্ঞা বা চাপের রাজনীতি করুক না কেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে শুরু করে গবেষণাগারের কোনো কাজই বন্ধ করা হবে না।
ভেস্তে যাচ্ছে শান্তি আলোচনা: দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক আলোচনার লক্ষ্য ছিল ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা এবং বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। কিন্তু তেহরানের এই সাম্প্রতিক ‘হার্ডলাইন’ অবস্থান আলোচনার টেবিলে বরফ জমানোর পরিবর্তে বারুদ ছিটিয়ে দিল। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যেভাবে অনড় থাকছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে কোনো স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতি বা চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ: ইরানের এই সিদ্ধান্ত কেবল আমেরিকা নয়, বরং ইজরায়েলসহ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য অশনি সংকেত। ইজরায়েল ইতিমধ্যেই হুঙ্কার দিয়ে রেখেছে যে, ইরানকে পরমাণু শক্তিধর হতে দিতে তারা যে কোনো চরম পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। ফলে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাজার ও তেলের দামে প্রভাব: তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি কি তবে শুধুই একটা কাল্পনিক শব্দ হয়ে থাকবে? নাকি শেষ মুহূর্তে কোনো মিরাকল ঘটবে? সারা বিশ্বের নজর এখন তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।





