ভেনেজুয়েলার পর ‘বরফের দ্বীপ’ গ্রিনল্যান্ডে নজর ট্রাম্পের! কেন এই বিশাল ভূখণ্ড কিনতে চায় আমেরিকা?

ভেনেজুয়েলার মসনদ থেকে নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাখির চোখ উত্তর আটলান্টিকের বিশাল দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড। ডেনমার্কের অধীনস্থ এই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটিকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে আনা এখন আমেরিকার ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করছেন ট্রাম্প। ২০১৯ সালে প্রথমবার গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়ে ডেনমার্কের কাছে প্রত্যাখ্যাত হলেও, ২০২৬-এ এসে ট্রাম্পের সেই জেদ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি জেফ ল্যান্ড্রিকে গ্রিনল্যান্ডের বিশেষ দূত নিযুক্ত করার পর পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠেছে। ল্যান্ড্রি স্পষ্ট জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডকে অবশ্যই আমেরিকার মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

কিন্তু কেন এই বরফে ঢাকা দ্বীপের জন্য এত মরিয়া ট্রাম্প? উত্তরটা লুকিয়ে আছে গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান এবং মাটির তলায় থাকা বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদে। গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ বরফে ঢাকা থাকলেও এখানে রয়েছে বিশ্বের মোট মিষ্টি জলের প্রায় ২০ শতাংশ। জলবায়ু পরিবর্তনের এই যুগে মিষ্টি জলই হতে চলেছে ভবিষ্যতের সবথেকে বড় সম্পদ। এছাড়া CIA-র তথ্য অনুযায়ী, এখানে কয়লা, লোহা, দস্তা এবং সীসার পাশাপাশি রয়েছে হীরা, সোনা ও প্ল্যাটিনামের মতো মহামূল্যবান খনিজ।

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বিরল খনিজ— নিওবিয়াম, ট্যানটালাম এবং ইউরেনিয়াম। বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, উপগ্রহ এবং মহাকাশ গবেষণার জন্য এই খনিজগুলি অপরিহার্য। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের সামুদ্রিক জলসীমায় রয়েছে প্রচুর মাছ এবং তেলের বিশাল ভাণ্ডার।

তবে ট্রাম্পের এই গ্রিনল্যান্ড প্রীতির নেপথ্যে একটি বড় কারণ হলো চিন। গ্রিনল্যান্ডের খনিজ প্রকল্পে চিনা কোম্পানিগুলি যে হারে আগ্রহ দেখাচ্ছে, তা আমেরিকার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, গ্রিনল্যান্ডের সম্পদের ওপর চিনের প্রভাব বৃদ্ধি পেলে তা সরাসরি আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। ফলে একদিকে সম্পদের ভাণ্ডার দখল আর অন্যদিকে চিনকে টেক্কা দেওয়া— এই দুই লক্ষ্যেই এখন গ্রিনল্যান্ডকে নিজের পকেটে পুরতে চাইছেন ট্রাম্প।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy