জম্মু ও কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এক সন্দেহভাজন চিনা নাগরিক। আটক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কাছে ভারতে প্রবেশ বা ভূস্বর্গে ঘোরার কোনো বৈধ অনুমতি-নথি ছিল না। কাশ্মীরজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানের সময় শ্রীনগরের হোটেল ও হোম স্টেগুলি থেকে তাঁকে হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়।
ধৃত চিনা নাগরিকের নাম হু কংতাই, যিনি চিনের সেচুয়ান এলাকার বাসিন্দা। তাঁর সন্দেহজনক গতিবিধি প্রথমে মিলিটারি-রাডারে ধরা পড়ে একটি অস্বাভাবিক ইন্টারনেট ব্যবহারের সংকেত-এর মাধ্যমে। তখনই নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক হয়ে তল্লাশি শুরু করে।
সন্দেহের কারণ এবং বিতর্কিত সার্চ
নিরাপত্তা বাহিনী হু কংতাইয়ের ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখে জানতে পারে, তিনি কাশ্মীরে CRPF মোতায়েন এবং Article 370 নিয়ে বিস্তারিত সার্চ করেছেন। এছাড়াও তাঁর ফোনে একাধিক সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে, যা থেকে মনে করা হচ্ছে তাঁর উদ্দেশ্য পর্যটন নয়। জানা গেছে, চিন থেকে এসে লেহ-তে বিমান থেকে নামার পর তিনি বিদেশী নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট স্ক্যান এড়িয়ে যান এবং স্থানীয় বাজার থেকে ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করেন।
লাদাখ থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত ভ্রমণ
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, হু কংতাই প্রথমে বিমানযোগে লেহ-তে আসেন এবং লাদাখের জানস্কর অঞ্চলেও ঘোরাফেরা করেন। ডিসেম্বরের ১ তারিখে তিনি শ্রীনগরে একটি আনরেজিস্টার্ড গেস্ট হাউসে থাকতে শুরু করেন। এরপর তিনি হারওয়ান বৌদ্ধ মঠ, শঙ্করাচার্য পাহাড়, হজরতবাল এবং ডাল লেকের ধারে মুঘল গার্ডেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে ঘুরে বেড়ান।
এই ব্যক্তি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা নিয়ে উচ্চশিক্ষা করেছেন। এই ঘটনায় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ইতোমধ্যে পাঁচটি এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। বর্তমানে গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন—এই চিনা নাগরিক কী উদ্দেশে দেশে ঢুকেছিলেন, কাদের হয়ে তথ্য জোগাড় করছিলেন এবং সেই তথ্য কোথায় পাচার করতেন।