ভূতনির বন্যাকবলিত এলাকায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ছাদে খেলতে গিয়ে জলে ডুবে প্রাণ গেল ৫ বছরের শিশুর!

ভুতনি দ্বীপে সর্বগ্রাসী বন্যার কোপে প্রাণ হারাল এক নিষ্পাপ শিশু। শনিবার ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা উত্তর চণ্ডীপুর এলাকা শোকে স্তব্ধ। প্রশাসনের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও দুর্গতরা বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে না যাওয়ায় এই ভয়াবহ পরিণতি বলে মনে করা হচ্ছে। ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ স্মৃতিকে উসকে দেওয়া এই বন্যায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
মৃত শিশুটির নাম সামিউর রহমান, যার বয়স মাত্র পাঁচ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর চণ্ডীপুরের সামিরুদ্দিনটোলা এলাকার বাড়িটি এখন পুরোপুরি জলমগ্ন। ঘরের ভেতরে গলা পর্যন্ত জল থাকায় শিশুটির পরিবার ছাদে আশ্রয় নিয়েছিল। ঘটনার দিন বাড়ির ছাদে খেলছিল সামিউর। এরপর কোনো একসময়ে সে সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে অসাবধানতাবশত জলের মধ্যে তলিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা কিছু সময় পর তাকে দেখতে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুজি শুরু করেন। হঠাৎ করেই জলের ওপর শিশুটির একটি জুতো ভাসতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরের ভেতর জমে থাকা জলের মধ্যেই ডুব দিয়ে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। এরপর তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর পথেই ঘটে যায় সবথেকে বড় ট্রাজেডি।
পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো স্পিডবোটের জন্য খবর দেওয়া হলেও প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলের পৌঁছাতে অনেকটাই দেরি হয়। শিশুকে উদ্ধার করে মানিকচক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যেতে প্রায় চার ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, সঠিক সময়ে চিকিৎসা এবং স্পিডবোটের সাহায্য পেলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো। এই অকালমৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
স্থানীয় সিপিআইএম নেতা দেবজ্যোতি সিনহা বলেন, “উত্তর চণ্ডীপুরের সামিরুদ্দিনটোলা এলাকায় এখন মানুষের বুক সমান জল জমে রয়েছে। আবদুল বারিকের ছোট ছেলে সামিউর সিঁড়ি থেকে জলে পড়ে মারা গেছে। মানিকচক হাসপাতালেও তাকে বাঁচানো যায়নি। ১৯৯৮ সালের পর ভুতনিতে এমন প্রলয়ঙ্করী বন্যা আর দেখা যায়নি। এলাকার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে মৃতদেহ সৎকার করার মতো অবস্থাও নেই। শিশুটির দাদুর বাড়ি জালালপুরে রয়েছে, ময়নাতদন্তের পর সম্ভবত সেখানেই তাকে সমাহিত করা হবে।”
পরিস্থিতির অবনতি দেখে জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তা গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, “বন্যার জলে ডুবে এই ধরনের শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং বেদনাদায়ক। ভুতনিতে এই নিয়ে বন্যায় মোট তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। আমরা বারবার বানভাসি মানুষদের অনুরোধ করছি, তাঁরা যেন ঝুঁকি না নিয়ে অবিলম্বে কাছাকাছি সরকারি ত্রাণ শিবিরগুলিতে চলে আসেন। মানুষের জীবনের থেকে মূল্যবান আর কিছুই হতে পারে না। অথচ বহু মানুষ এখনও জলের তলায় থাকা ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িতেই রয়েছেন। আমরা আবারও আবেদন করছি, নিজেদের ও পরিবারের কথা ভেবে সবাই দ্রুত ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিন। প্রশাসন ত্রাণ শিবিরগুলিতে সমস্ত প্রয়োজনীয় বন্দোবস্ত করে রেখেছে।”