ভুলেও ভুল করবেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন!’, ভোটার তালিকায় নাম তোলার ‘গ্যারান্টি’ অনুব্রতর, ফুঁসছে বিজেপি

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে রাজ্যজুড়ে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) চলাকালীন ফের বিতর্কের জন্ম দিলেন তৃণমূল-কংগ্রেসের বীরভূম জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। বোলপুরের একটি ‘ভোট সুরক্ষা সভা’ থেকে তিনি নিজ দলের কর্মীদের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে বলেন, ভোটার তালিকায় নাম তোলার বিষয়ে “চিন্তার কোনও কারণ নেই, আমাদের লোকরা আছেন, ভোটার লিস্টে ঠিক নাম উঠিয়ে দেবেন।”

বোলপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডল প্রথমে অসমের এনআরসি (NRC) পরিস্থিতি টেনে আনেন। তিনি বলেন, “অসমে ১৭ লক্ষ ভোটার বাদ গিয়েছিল। অনেক হিন্দু লোক আনন্দিত হয়েছিল, যে মুসলমান বাদ যাবে। কিন্তু, মাত্র ৪ লক্ষ মুসলমান বাদ গিয়েছিল, আর ১৪ লক্ষ হিন্দু বাদ যায়। তাই ভুলেও ভুল করবেন না। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন।”

এরপরই তিনি বিতর্কিত মন্তব্যটি করেন। তিনি জনগণকে অভয় দিয়ে বলেন, “যে যেখানে আছেন, যাঁরা বউ হয়ে এসেছেন, তাঁদের মা-বাবাদের নাম ২০০২ সালে আছে। সেটা নিশ্চই খোঁজ করলে পেয়ে যাবেন। ভয়ের কোনও কারণ নেই, আমাদের লোকরা আছেন, ভোটার লিস্টে ঠিক নাম উঠিয়ে দেবেন। আর যদি এনআরসি হয়, সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝে নেবে, কাউকে জেল খাটতে হবে না।”

বিজেপির কটাক্ষ: বিএলও-দের প্রভাবিত করছেন তৃণমূল নেতারা

অনুব্রত মণ্ডলের এই মন্তব্যের পরই রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। শাসকদলের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনেছে বিজেপি। বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, “আমাদের রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আগেই অভিযোগ করেছেন স্বচ্ছভাবে এসআইআর হচ্ছে না। তৃণমূলের নেতারা বিএলওদের প্রভাবিত করছেন। অনুব্রতর আত্মবিশ্বাসী সুরে করা এই মন্তব্যেই সেটা বারবার প্রমাণিত। কীভাবে দলের কোনও লোক ভোটার লিস্টে নাম তুলে দিতে পারেন? এত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কীভাবে কেউ বলতে পারেন!”

প্রসঙ্গত, বুধবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি পেন ড্রাইভে সারা রাজ্যের ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভুয়ো ভোটারের নাম নির্বাচন কমিশনের অফিসে জমা দিয়েছিলেন। এমন আবহে অনুব্রত মণ্ডলের এই ‘গ্যারান্টি’ মন্তব্য শাসকদলকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।