ভুয়ো ডেথ সার্টিফিকেট! ৬ মাস ধরে সরকারি খাতায় ‘মৃত’ থাকা কুলতলির মহিলাকে জীবিত করার নির্দেশ হাইকোর্টের

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি থেকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। গ্রামেরই এক বাসিন্দা ভুয়ো নথি দেখিয়ে ডেথ সার্টিফিকেট বের করায় গত প্রায় ছয় মাস ধরে সরকারি খাতায় ‘মৃত’ বলে গণ্য হচ্ছিলেন কুলতলির বাসিন্দা শাবানা লস্কর। এই কারণে তাঁর সব পরিচয়পত্র বাতিল হয়ে যায়। অবশেষে, হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালত ‘মৃত’ শাবানাকে জীবিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
কীভাবে ‘মৃত’ হলেন শাবানা?
কুলতলির বাসিন্দা শাবানা লস্কর অভিযোগ করেছেন, গ্রামেরই আর এক বাসিন্দা সাহাদুল লস্কর তাঁর আধার কার্ডের নম্বর হাতিয়ে নিয়ে ভুয়ো নথি দিয়ে ডেথ সার্টিফিকেট বের করে।
জানা গিয়েছে, গত ১৪ মে গ্রাম পঞ্চায়েত শাবানার ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করে।
পরিবারের দাবি, সাহাদুলের উদ্দেশ্য ছিল সরকারের কাছ থেকে মৃত্যুকালীন আর্থিক সুবিধা আদায় করা, বিশেষ করে কৃষকবন্ধু প্রকল্পের অধীনে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা হাতিয়ে নেওয়াই তার মূল লক্ষ্য ছিল।
ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু হওয়ার ফলে শাবানার সমস্ত পরিচয়পত্র, যেমন ভোটার কার্ড ও আধার কার্ড, বাতিল হয়ে যায়।
হাইকোর্টের দ্বারস্থ শাবানা:
শাবানা জানিয়েছেন, পুলিশ ও প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তিনি সম্প্রতি SIR (স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন)-এর ফর্মও পাননি। কোনো উপায় না দেখে শেষে শাবানার পরিবারের লোকজন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
বিচারপতির নির্দেশ:
বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও ডেথ সার্টিফিকেট বাতিলের নির্দেশ দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়:
শাবানার ডেথ সার্টিফিকেট অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
তাঁর নামে থাকা বাতিল হয়ে যাওয়া ভোটার, আধার কার্ড এবং অন্যান্য পরিচয়পত্র পুনরায় সচল করতে হবে।
তদন্তে ষড়যন্ত্রের প্রমাণ:
শাবানার পরিবারের দাবির পর পুলিশও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, শাবানা জীবিত রয়েছেন এবং এই ষড়যন্ত্রে সাহাদুল লস্করের হাত রয়েছে বলে তাঁরাও দেখতে পেয়েছেন। ফলে শাবানা ও তাঁর পরিবার সঠিক অভিযোগই করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সাহাদুলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।