ভুয়ো ডিগ্রি কাণ্ডে এবার ইডি! মনাড ইউনিভার্সিটি-কে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানায় ১৬টি জায়গায় ব্যাপক তল্লাশি

দেশে ভুয়ো ডিগ্রির বিশাল কারবার রুখতে এবার মাঠে নামল কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বৃহস্পতিবার ইডি উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি এবং হরিয়ানা জুড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। হাপুরের মনাড ইউনিভার্সিটি (Monad University)-কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিশাল জাল ডিগ্রি চক্রের সঙ্গে অর্থ পাচারের (Money Laundering) যোগ রয়েছে—এই সন্দেহে অভিযান শুরু করেছে ইডি।

ইডির লখনউ জোনাল অফিসের নেতৃত্বে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে এই তল্লাশি শুরু হয়। ইডি সূত্রে জানা গেছে, মনাড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাল ডিগ্রি ও সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগে চলমান তদন্তের সূত্র ধরেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।

১৬টি সন্দেহজনক জায়গায় অভিযান:

বৃহস্পতিবার মোট ১৬টি সন্দেহজনক জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হাপুরে মনাড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাস, মীরাট, এবং উন্নাওয়ের সরস্বতী মেডিক্যাল কলেজ। এছাড়াও দিল্লি, ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম ও সোনিপতেও ইডি তল্লাশি চালায়।

কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যের অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে প্রতারিত করা হয়েছে। এই জালিয়াতি চক্রে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, এবং সেই অর্থ একাধিক ভুয়ো সংস্থার (Front Company) মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে।

রাজনীতির সঙ্গে অভিযুক্তের যোগ:

এই মামলার মূল অভিযুক্ত বিজেন্দ্র সিং ওরফে বিজেন্দ্র হুডা বর্তমানে জেলবন্দি। তিনি শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই যুক্ত নন, রাজনৈতিকভাবেও পরিচিত মুখ। হুডা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজনৌর আসন থেকে বহুজন সমাজ পার্টির (BSP) প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন বিজেন্দ্র হুডা। তিনিই বিভিন্ন রাজ্যে নকল ডিগ্রি বিক্রির নেটওয়ার্ক চালাতেন এবং সেই টাকা পাচারের জন্য ভুয়ো সংস্থা তৈরি করতেন। উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) তাঁকে এই একই মামলায় আগেই গ্রেফতার করেছিল। বর্তমানে ইডি সেই তদন্তের সূত্র ধরে আর্থিক লেনদেন ও পাচার সংক্রান্ত প্রমাণ খুঁজছে।