ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে বসবাস! বেঙ্গালুরু পুলিশের জালে ধরা পড়া বাংলাদেশিদের নিয়ে বড় পদক্ষেপ

অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে বেঙ্গালুরু থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ৩১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গ মালদায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে বেঙ্গালুরু সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে করে তাঁদের মালদা টাউন স্টেশনে নামানো হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুরো যাত্রাপথ জুড়ে ট্রেনের নির্দিষ্ট কোচে প্রায় ২০ জন সশস্ত্র পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন। স্টেশন চত্বর থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁদের দুটি বিশেষ বাসে করে মালদা শহরের একটি সুরক্ষিত হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রশাসনিক নির্দেশিকা অনুযায়ী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধাপে ধাপে ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের সীমান্ত দিয়ে পুশব্যাক করা হবে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ, কর্নাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুর মোট ১০টি পৃথক থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে এই ৩১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছিল স্থানীয় পুলিশ। অভিযুক্তদের কাছে এ দেশে বসবাসের পক্ষে প্রয়োজনীয় কোনো ধরনের বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা বা আইনি নথিপত্র ছিল না বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের পর তাঁরা বেঙ্গালুরু শহরের বিভিন্ন এলাকায় গোপন আস্তানায় থেকে নানা ধরনের কাজকর্ম ও দিনমজুরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগেই ওই বাংলাদেশি নাগরিকদের বেঙ্গালুরু পুলিশ আটক করেছিল এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া চালাতে তাঁদের ডিটেনশন ক্যাম্পে রাখা হয়েছিল। গত রবিবার তাঁদের বেঙ্গালুরুর এসএমভিটি স্টেশন থেকে হাওড়া-বেঙ্গালুরু সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে তুলে মালদায় পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটা নাগাদ ট্রেনটি মালদা টাউন স্টেশনে পৌঁছানোর পর পুলিশি ঘেরাটোপে তাঁদের নামানো হয়। বাসে ওঠার সময় আটক এক বাংলাদেশি নাগরিক ফারু শেখ দাবি করেন যে, তিনি বাংলাদেশের বগুড়া জেলা থেকে প্রায় তিন মাস আগে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন। তবে অন্যান্য বন্দিদের জেরা করে জানা গেছে, কেউ পাঁচ মাস তো কেউ আবার সাত মাস আগে কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অধিকাংশের পেশাই ছিল বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সাফাইকর্মী হিসেবে কাজ করা। মালদা জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বুধবার সকাল থেকেই মালদা শহর সংলগ্ন হোল্ডিং সেন্টারের চারপাশের নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।