ভিনরাজ্যের কষ্টের কাজ ছেড়ে বাড়ির কোণে এক চিলতে জায়গায় লক্ষ লক্ষ টাকা আয়ের পথ খুঁজে পেয়েছেন মহিষাদলের ঘাগরার যুবক বুদ্ধদেব মাইতি। একসময় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে বাইরে কাজ করলেও, নিজের ভিটেয় থেকে কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। সেই জেদ থেকেই বাড়ির সামনের চৌবাচ্চায় শুরু করেন আধুনিক পদ্ধতিতে শোল মাছের চাষ। আজ তাঁর এই সাফল্য শুধু নিজের ভাগ্য ফেরায়নি, বরং জেলার বেকার যুবক-যুবতীদের কাছে স্বনির্ভরতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে মা বর্গভীমার মন্দিরে শোল মাছের ভোগের চল থাকায় এই মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বুদ্ধদেব অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ৫০০০ চারাপোনা নিয়ে এসে চারটি সিমেন্টের ট্যাঙ্কে চাষ শুরু করেছিলেন। মাত্র আট মাসেই একেকটি মাছের ওজন দাঁড়িয়েছে দেড় থেকে দুই কেজি। তাঁর কথায়, “একটি মাছ বড় করতে খরচ হয় ১৫০-২০০ টাকা, যা বাজারে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।” এ বছর তিনি ১২ হাজার চারা নিয়ে আরও বড় পরিসরে চাষ শুরু করেছেন।
বুদ্ধদেবের এই সাফল্য দেখতে এখন ভিড় জমছে তাঁর বাড়িতে। চাকরির পেছনে না ছুটে মাছ চাষের মতো আধুনিক কৃষিকাজে এগিয়ে আসার জন্য তিনি সকলকে আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে নতুনদের সবরকম কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন এই সফল যুবক।