ভিডিও রেকর্ডিং, কড়া পুলিশি নজরদারি: মথুরার বাঁকে বিহারী মন্দিরের ‘গুপ্ত ধন’-এর সন্ধান, কী আছে ঐতিহাসিক সিন্দুকে?

আলোর উৎসব ধনতেরাসে মথুরার বিখ্যাত বাঁকে বিহারী মন্দিরের গুপ্তধনের সিন্দুক বা ‘ভাণ্ডার ঘর’ (Treasure Chambers) খোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে এই সিন্দুকগুলি খোলা হয়, যা ১৯৭১ সাল থেকে সিল করা ছিল।
পরিদর্শনকালে মন্দিরের পুরোহিতরা দাবি করেছেন, এই ভাণ্ডার কক্ষ থেকে একটি সোনার বার, তিনটি বড় রুপোর বার এবং লাল ও সবুজ রঙের মূল্যবান রত্নপাথর উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও, বহু পুরোনো মুদ্রা এবং ধাতব পাত্র পাওয়া গেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। পুরোহিতদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি বার প্রায় তিন থেকে চার ফুট লম্বা।
কঠোর নিরাপত্তায় সার্ভে, কী বলছেন আধিকারিকরা?
এই ঐতিহাসিক ভাণ্ডার কক্ষ খোলার কাজটি সম্পন্ন হয় ভিডিও রেকর্ডিং-এর মাধ্যমে এবং কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে। মথুরা পুলিশ, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত নজরদারি কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (অর্থ ও রাজস্ব) পঙ্কজ কুমার বর্মা নিশ্চিত করেছেন যে, উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলিকে আপাতত সরকারি নথিতে “পিলি ধাতু” (হলুদ ধাতু) এবং “সফেদ ধাতু” (সাদা ধাতু) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই ধাতুগুলির সম্পূর্ণ মূল্যায়ন এখনও শুরু হয়নি। তালিকা তৈরির পর সিন্দুকগুলি আবার সিল করে দেওয়া হয়েছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৯ অক্টোবর ফলো-আপ মিটিং রয়েছে, যেখানে উদ্ধার হওয়া এই সম্পদ সংরক্ষণ ও সুরক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঐতিহাসিক ভাণ্ডার ও কিংবদন্তীর অতীত
বাঁকে বিহারী মন্দিরের এই ভাণ্ডারটি তৈরি হয়েছিল ১৮৬৪ সালে। মন্দিরের কিংবদন্তী অনুযায়ী, এই সিন্দুকে একসময় ময়ূর-আকৃতির পান্নার নেকলেস, নবরত্ন খচিত সোনার কলস এবং ১৯শ শতাব্দীর পুরোনো ভূমি দলিল সহ বিভিন্ন রাজকীয় উপহার ছিল।
পুরোহিতরা মনে করছেন, দীর্ঘকাল ধরে অব্যবহৃত থাকার কারণে ভাণ্ডার কক্ষগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখা এবং সম্পদ নথিভুক্ত করার জন্যই এই পরিদর্শন জরুরি ছিল।
আইনি জটিলতা ও ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত
এই ‘ভাণ্ডার ঘর’ খোলার প্রক্রিয়াটি মন্দিরের ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলা একটি বৃহত্তর আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত। উত্তর প্রদেশ সরকার মন্দিরের পরিচালনার জন্য একটি রাজ্য-নিয়ন্ত্রিত ট্রাস্ট গঠন করতে চাইলেও, মন্দিরের ঐতিহ্যবাহী সেবায়ত গোস্বামী পরিবার এর বিরোধিতা করে। সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে সরকারের সেই অধ্যাদেশে স্থগিতাদেশ দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি প্যানেল তৈরি করেছে।
আপাতত, সোনার ও রুপোর বার উদ্ধারের এই খবর ভক্ত ও স্থানীয়দের মধ্যে বিপুল আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। তবে এই ঐতিহাসিক সম্পদের চূড়ান্ত পরিণতি কী হবে, তা এখনও সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।