ব্যারাকপুর স্টেশনের চেনা ভিড়, ট্রেনের হুইসেল আর হকারদের হাঁকডাক। এর মাঝেই হঠাৎ মায়ের হাত ফস্কে নিখোঁজ এক শিশু। আগে এই পরিস্থিতি ছিল যে কোনো মা-বাবার কাছে দুঃস্বপ্ন, কিন্তু এখন গল্পের শেষটা বদলে দিচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তি। পূর্ব রেলওয়ের যাত্রী নিরাপত্তায় যুক্ত হয়েছে এক ‘ডিজিটাল অভিভাবক’। এআই (AI) চালিত হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা মুহূর্তের মধ্যে ভিড়ের মাঝে ওই শিশুকে শনাক্ত করে আরপিএফ-এর মাধ্যমে ফিরিয়ে দিল তার পরিবারের কোলে।
পূর্ব রেলওয়ে যাত্রী নিরাপত্তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে আইপি-ভিত্তিক ভিডিও সারভেইল্যান্স সিস্টেম (VSS) স্থাপন করেছে। নির্ভয়া ফান্ডের অর্থায়নে তৈরি এই ব্যবস্থায় রয়েছে ফেসিয়াল রিকগনিশন বা মুখাবয়ব শনাক্তকরণ ক্ষমতা। হাওড়া, শিয়ালদহ এবং মালদহ ডিভিশনের প্রায় ২৫৪টি স্টেশন এখন এই হাই-টেক নজরদারির আওতায়। স্টেশনের প্রবেশপথ থেকে প্ল্যাটফর্ম—সবই এখন ২৪/৭ আরপিএফ কন্ট্রোল রুমের কড়া নজরে।
প্রযুক্তির পাশাপাশি ফিল্ড অপারেশনেও রেকর্ড গড়েছে পূর্ব রেল। ‘অপারেশন নানহে ফরিস্তে’-র অধীনে প্রায় ১৪০৭ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। মানব পাচার রুখতে ‘অপারেশন আহাট’-এর মাধ্যমে ১২৪ জন শিশুকে পাচারকারীদের কবল থেকে বাঁচিয়ে ৬৮ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে আরপিএফ। এছাড়া ‘অপারেশন ডিগনিটি’ এবং অ্যাসিড আক্রান্তদের জন্য ‘ওয়ান স্টেশন ওয়ান প্রোডাক্ট’ স্টল বরাদ্দের মতো সামাজিক উদ্যোগ প্রমাণ দিচ্ছে যে, রেলের কাছে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাই শেষ কথা।





