‘ভালোবাসাটা থাকতে হয়, লিঙ্গ বাধা হতে পারে না’! সুন্দরবনের দুই যুবতী রিয়া-রাখির সাত পাকে ঘোরার নজির

সুপ্রিম কোর্টে একসময় কেন্দ্রের আইনজীবীর করা মন্তব্য—সমলিঙ্গের বিয়ে ‘শহুরে বিলাসিতা’—তাকে কার্যত ভুল প্রমাণ করলেন প্রত্যন্ত সুন্দরবনের দুই যুবতী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারের বাসিন্দা রিয়া সরদার এবং বকুলতলার বাসিন্দা রাখি নস্কর সমাজের বাধা এবং পরিবারের অমত উপেক্ষা করে প্রতিবেশীদের সাহায্যে মঙ্গলবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন।
‘ভালোবাসাটা থাকতে হয়, লিঙ্গ বাধা হতে পারে না’
দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ককে সামাজিক স্বীকৃতি দিতেই এই পদক্ষেপ নেন রিয়া ও রাখি। রাখির বাবা-মা এই সম্পর্ক মেনে না নিলেও, রিয়ার পরিবার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
রিয়া সরদারের বক্তব্য:
“আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি একসঙ্গে থাকব। আমার পরিবার পাশে দাঁড়িয়েছে, তাই আজকে আমরা বিয়ে করলাম। দু’জন মানুষের একসঙ্গে থাকতে গেলে লিঙ্গ বাধা হতে পারে না। ভালোবাসাটা থাকতে হয়। আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। এটুকুই যথেষ্ট।”
রাখি জানান, তাঁর বাবা-মা সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় তিনি বাড়ি ছেড়ে ভালোবাসার মানুষের হাত ধরে এসেছেন।
প্রতিবেশীরাই আয়োজন করলেন বিয়ে
এই সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতির প্রশ্ন উঠলেও, স্থানীয় সমাজ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রিয়া ও তাঁর পরিবার স্থানীয় ক্লাব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বললে, কেউ আপত্তি করেননি।
আয়োজনের দায়িত্ব: প্রতিবেশীরাই স্থানীয় মন্দিরে তাঁদের বিয়ের আয়োজন করেন।
অনুষ্ঠান: মঙ্গলবার তাঁরা সাতপাকে ঘুরে, মালাবদল ও সিঁদুরদানের মধ্যে দিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
রিয়ার প্রতিবেশী জলধর মণ্ডল বলেন, “আগে কখনও দেখিনি। তবে, খবরে শুনেছি, পড়েছি সমলিঙ্গের বিয়ের কথা। এবার প্রথম দেখলাম। ওরা আমাদের কাছে এসে বলল একসঙ্গে থাকতে চায়, তাই বিয়ে করবে। আমাদের ক্লাবের তরফে ওদের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চ এই বিষয়টি পুরোপুরি দেশের সংসদের উপর ছেড়ে দিয়েছে। শীর্ষ আদালত সমলিঙ্গের বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি না দিলেও, দুই যুবতীর এই পদক্ষেপ সমাজে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্ম দিল।