ভারত ও নেপালের যুগ-যুগান্তরের সুসম্পর্কে এবার বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে নেপাল সরকারের এক বিতর্কিত কাস্টমস নিয়ম। ভারত থেকে আমদানিকৃত ১০০ টাকার বেশি মূল্যের যেকোনো পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো। বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন সীমান্তে সাধারণ মানুষ এই নিয়মকে ‘অঘোষিত অবরোধ’ আখ্যা দিয়ে রাস্তায় নেমেছেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই ১০০ টাকার সীমা প্রত্যাহার করতে হবে।
দৈনন্দিন জীবন বিপন্ন
সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবন কার্যত ভারতীয় বাজারের ওপর নির্ভরশীল। এক প্রতিবাদকারীর কথায়, “জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের সব প্রয়োজনীয় জিনিস ভারত থেকে আসে। এক বোতল তেল বা এক কেজি চা কিনলেই ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এখন প্রতিটি ব্যাগ চেক করে কর নেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের জীবনকে অসম্ভব করে তুলেছে।” বর্তমানে নেপালি নববর্ষের শুরু থেকেই এই নিয়ম কড়াকড়িভাবে প্রয়োগ করছে বালেন শাহ সরকার। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও কাস্টমস কর্মকর্তারা লাউডস্পিকারে ঘোষণা করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছেন।
রাজস্ব বনাম সাধারণের পকেট
নেপাল সরকারের যুক্তি, এই পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ হবে এবং দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নেপালের স্থানীয় বাজারের তুলনায় ভারতীয় বাজারে পণ্যের দাম কম হওয়ায় দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ভারত থেকেই কেনাকাটা করে। এখন ৫ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কাস্টমস ডিউটি দিতে হওয়ায় তাঁদের দৈনন্দিন খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে।
প্রভাবিত ভারতের সীমান্ত বাজারও
এই নিয়মের আঁচ লেগেছে ভারতের উত্তর বিহারের বাজারগুলোতেও। মোতিহারি, জোগবানি ও অররিয়ার মতো প্রায় ৫০টি গ্রামীণ বাজারে নেপালি ক্রেতাদের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে। বিয়ের মরশুমেও বিক্রিবাট্টা না হওয়ায় চিন্তিত ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। তেরাই অঞ্চলের মধেসি যুবকরা কাঠমান্ডুর মাইতিঘর মণ্ডলে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, “এই নিয়ম ভারতের সঙ্গে আমাদের শতাব্দী প্রাচীন রোটি-বেটির সম্পর্ককে আঘাত করছে।” নেপালি কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোও এখন এই জনবিরোধী সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে সরব হয়েছে।





