ভারত-চিন সম্পর্কে বড় বরফ গলল! ২০২৭-এ ভারতেই বসছে বিশেষ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক!

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি বজায় রাখতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপে সায় দিল নয়াদিল্লি ও বেজিং। আগামী ২০২৭ সালে ভারতেই ভারত-চিন সীমান্ত সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের পরবর্তী বৈঠক আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি বেজিংয়ে অনুষ্ঠিত দুই দেশের ২৫তম দফার বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই যৌথভাবে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের কূটনৈতিক আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার ওপর ভিত্তি করেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সীমান্ত সমস্যা এবং দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, বৈঠকে অজিত ডোভাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুস্থ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সীমান্ত এলাকায় পূর্ণ শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের মধ্যে ইতিপূর্বে কাজান ও তিয়ানজিনে হওয়া ঐতিহাসিক সমঝোতাগুলির বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। দুই দেশই একমত হয়েছে যে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কথা মাথায় রেখে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে সীমান্ত বিরোধের একটি ন্যায্য এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সীমান্ত পারাপার পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টিতে উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে পবিত্র কৈলাস মানসসরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু হওয়া এবং নির্ধারিত তিনটি সীমান্ত বাণিজ্যপথের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সচল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। অজিত ডোভাল স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ভারত ও চিনের একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে বরং বন্ধু ও সহযোগী হিসেবে দেখা উচিত। দুই এশিয়ার প্রধান অর্থনৈতিক শক্তির মধ্যে সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
চিনের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, ২০০৫ সালের রাজনৈতিক নির্দেশিকা মেনে বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের কাঠামোর মাধ্যমেই সীমান্ত সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খোঁজা হবে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।