ভারত এখন বিশ্বশক্তি! যুদ্ধাস্ত্র আমদানি নয়, রফতানিই লক্ষ্য! নেপথ্যে কেন্দ্রের মাস্টার প্ল্যান

দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত করতে এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতকে এক শক্তিশালী খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে এবার গবেষণা ও উন্নয়নে (R&D) নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো আগামী ৫ বছরে শুধুমাত্র গবেষণা ও উন্নয়নের কাজে ৩২ হাজার ৭৬৬ কোটি টাকা খরচ করতে চলেছে।
প্রসঙ্গত, এই অঙ্কটা গত ১০ বছরে হওয়া মোট বিনিয়োগের থেকেও (৩০,৯২ কোটি টাকা) বেশি!
বদলে গেল রণনীতি: ‘উৎপাদন নির্ভরতা’ থেকে ‘প্রযুক্তি রফতানি’
এতদিন ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প মূলত উৎপাদনের উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু বর্তমানে কেন্দ্র নিজেদের রণনীতি আমূল বদল করেছে। লক্ষ্য এখন একটাই:
- লক্ষ্য ১: গবেষণা ও উন্নতির মাধ্যমে এমন অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরি করা যা ভারতকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভর করবে।
- লক্ষ্য ২: সেই প্রযুক্তি কেবল দেশের চাহিদা মেটাবে না, বরং ভারত যেন তা বিশ্বজুড়ে রফতানিও করতে পারে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং চলতি ২০২৫ সালকে ‘সংস্কারের বছর’ বলে ঘোষণা করেছিলেন, আর এই বিপুল বিনিয়োগ তারই প্রতিফলন।
পুরনো সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন ৭টি সংস্থা
এই বিশাল R&D বিনিয়োগে যুক্ত হচ্ছে একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা:
- পুরনো সংস্থা: হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL), ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL), ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেডের মতো পুরনো সংস্থাগুলো যেমন রয়েছে।
- নতুন সংস্থা: ২০২১ সালে ভারতের অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড ভেঙে যে ৭টি নতুন প্রতিরক্ষা সংস্থা তৈরি হয়েছিল, তারাও এই R&D-তে ৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে।
- জাহাজ নির্মাণ: দেশের জাহাজ নির্মাণ সংস্থাগুলোও আলাদা করে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা এই কাজের জন্য বরাদ্দ করেছে।
রাজস্বে বড়সড় লাফ
মন্ত্রক সূত্রের খবর, এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই নজির গড়েছে। তাদের সাম্প্রতিক আর্থিক রিপোর্টেই স্পষ্ট হয়েছে কেন্দ্রের এই সংস্কার নীতির সাফল্য:
- টার্নওভার: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাদের মোট টার্নওভার পৌঁছে গিয়েছে ১ লক্ষ ৮ হাজার কোটি টাকায়, যা গত অর্থবর্ষের তুলনায় ১৫.৪ শতাংশ বেশি।
- রফতানি বৃদ্ধি: একই সঙ্গে রপ্তানিও প্রায় বেড়েছে ৫১ শতাংশ।
এই সংখ্যাগুলিই প্রমাণ করে, ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র আজ কেবল দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে না, গবেষণা ও উন্নয়নে জোর দিয়ে বিশ্বমঞ্চেও তার ছাপ রাখছে।