ঘুম উৎসবে ধামাকা! শতাব্দী প্রাচীন দুই ‘হেরিটেজ ইঞ্জিন’ ফিরল পাহাড়ে, যাত্রার দিন ঘোষণা

শীতের আগেই দার্জিলিং হিমালয়ান রেল (DHR) পেল এক ঐতিহাসিক উপহার। ঘুম ফেস্টিভ্যাল (Ghoom Festival)-এ পর্যটকদের জন্য আসছে এক নতুন আকর্ষণ—দু’টি হেরিটেজ টয়ট্রেন ইঞ্জিন। বেঙ্গালুরু থেকে সড়কপথে আনা এই দু’টি ডিজেল লোকোমোটিভ, NDM Class 6- 606 ও 607, শতবর্ষের বেশি পুরোনো। সবচেয়ে বড় খবর হলো, আগামী ২৯ নভেম্বর এই ইঞ্জিন দু’টির যাত্রা শুরু হবে উৎসব উপলক্ষে।

বিশেষ আকর্ষণ ও প্রক্রিয়া

DHR সূত্রে জানা গেছে, এই ইঞ্জিন দু’টি পূর্বে হিমাচল প্রদেশের সিমলায় পরিষেবা দিত, কিন্তু বহু দশক ধরে এগুলি মাইসুরু রেল মিউজিয়ামে প্রদর্শনের জন্য রাখা ছিল। পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে পরিষেবা বাড়াতে ইঞ্জিন প্রয়োজন হওয়ায়, চার মাস আগে DHR আধিকারিকরা বিভিন্ন মিউজিয়ামে অনুসন্ধান শুরু করেন এবং বেঙ্গালুরুতে ইঞ্জিন দু’টির সন্ধান পান। রেল বোর্ড ও উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের অনুমোদনে, ইঞ্জিন দু’টি সেপ্টেম্বরের শেষে দার্জিলিং পৌঁছায় এবং কার্শিয়াংয়ের তিন ধারিয়া ওয়ার্কশপে মেরামতের কাজ শুরু হয়।

বিশেষজ্ঞ দল টানা মেরামতের পর ইঞ্জিন দু’টিকে ফের ট্র্যাকে নামাতে সক্ষম হয়েছে। ইঞ্জিন 607 পাহাড়ি বাঁকে চলার জন্য প্রস্তুত, যদিও 606 ইঞ্জিনটির অ্যাক্সেল সমস্যা দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। N.F. রেল ও রেল বোর্ড উভয়ই ইঞ্জিন দুটিকে পরিষেবায় ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়েছে।

DHR-এর শক্তি বৃদ্ধি

বর্তমানে DHR-এর অধীনে ১৩টি টয়ট্রেন ইঞ্জিন ছিল (৬টি স্টিম এবং ৭টি ডিজেল, যা ১৯৯৭ সালে তৈরি)। এই দু’টি যুক্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা বেড়ে হলো ১৫টি।

DHR ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন যে মেরামতের কাজ শেষ এবং ঘুম উৎসবে এদের সূচনা হবে, যেখানে ইঞ্জিন দু’টির নামকরণও করা হবে। এগুলি স্পেশাল জয়রাইডের জন্য ব্যবহৃত হবে। তিনি আরও জানান, আরও দু’টি হেরিটেজ ইঞ্জিন আনার প্রক্রিয়া চলছে। দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন।

ঘুম ফেস্টিভ্যাল ও নতুন পুরস্কার

পর্যটন প্রসারে এবং হেরিটেজ টয়ট্রেনকে বিশ্ব মানচিত্রে জনপ্রিয় করতে DHR কর্তৃপক্ষ এবার প্রথমবার ‘স্পিরিট অব দ্য হিলস অ্যাওয়ার্ডস’ ঘোষণা করেছে, যার নামকরণ করা হয়েছে ১৩টি হেরিটেজ ইঞ্জিনের নামানুসারে। এই পুরস্কার প্রদান করা হবে ৩০ নভেম্বর, বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল স্টেশন ঘুমে DHR ঘুম ফেস্টিভ্যালের অংশ হিসেবে। গত পাঁচ বছর ধরে চলা এই উৎসবে বিশেষ জয়রাইড, মিউজিয়াম প্রদর্শনী এবং স্থানীয় সংস্কৃতি, খাদ্য, পোশাক ও হস্তশিল্পের প্রদর্শনী থাকে।