টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক এক মাস আগে আইসিসি-কে দ্বিতীয়বার কড়া চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা জানালো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার পাঠানো এই চিঠিতে বিসিবি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে গিয়ে খেলা তাঁদের ক্রিকেটারদের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। ফিক্সচার অনুযায়ী বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ ভারতে (তিনটি কলকাতায় ও একটি মুম্বইয়ে) হওয়ার কথা থাকলেও, বিসিবি সেই ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে সরিয়ে নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে।
বিতর্কের মূলে মুস্তাফিজুর ও আইপিএল: এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। বিসিসিআই-এর নির্দেশে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) তাঁকে রিলিজ করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ঢাকা। বিসিসিআই ‘পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি’র কথা বললেও, বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল একে ‘জাতীয় অপমান’ হিসেবে দেখছেন। তাঁর সাফ কথা, “যে দেশে আমাদের একজন ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা দেওয়ার গ্যারান্টি দেওয়া হয় না, সেখানে গোটা দল পাঠানো সম্ভব নয়।” সরকারের এই কড়া বার্তার পরেই আইসিসি-কে দ্বিতীয় চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বোর্ড।
আইসিসি-র অবস্থান ও হাইব্রিড মডেল: আইসিসি প্রথম চিঠির পর নির্দিষ্ট ভয়ের কারণ জানতে চেয়েছিল। বিসিবি সেই ব্যাখ্যা দিলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। বরং ভারত সফর না করলে পয়েন্ট হারানোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে তারা। পাল্টা জবাবে বিসিবি ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথের মতো বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও ‘নিরপেক্ষ ভেন্যু’ বা ‘হাইব্রিড মডেল’ মেনে নেওয়ার দাবি তুলেছে।
বিসিবি-র অন্দরে দ্বিমত: এদিকে বিসিবি-র অন্দরেও এই ইস্যুতে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ সরকারের কড়া অবস্থানকে সমর্থন করলেও, অন্য পক্ষ মনে করছে আইসিসি ও বিসিসিআই-এর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করলে আখেরে বাংলাদেশের ক্রিকেটেরই ক্ষতি। আপাতত আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে ঢাকা তাদের দাবিতে অনড় থাকলেও, শনিবারের মধ্যে আইসিসি কী চূড়ান্ত উত্তর দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ক্রিকেট বিশ্ব।