ভারতে অনলাইন গেমিং শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, আইনি লড়াই চলছে সুপ্রিম কোর্টে

ভারতের অনলাইন গেমিং শিল্পের ভবিষ্যৎ এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে। সরকারের নতুন আইন, ‘প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং অ্যাক্ট, ২০২৫’-এর মাধ্যমে অনলাইন মানি গেমস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাইকোর্টে দায়ের হওয়া পিটিশনগুলো এখন শীর্ষ আদালতে স্থানান্তরিত হয়েছে। A23 এবং হেড ডিজিটাল ওয়ার্কসের মতো গেমিং সংস্থাগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে, দাবি করছে যে এই আইন অসাংবিধানিক এবং অসমানুপাতিক।
পিটিশনারদের মূল যুক্তি: সাংবিধানিক অধিকার ও অর্থনৈতিক প্রভাব
গেমিং সংস্থাগুলোর প্রধান যুক্তিগুলি হলো:
সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন: পিটিশনারদের মতে, এই আইনটি সংবিধানের আর্টিকেল ১৯(১)(গ)-কে লঙ্ঘন করছে, যা নাগরিকদের ব্যবসা ও পেশা চালানোর মৌলিক অধিকার দেয়। তারা মনে করে, সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায় অনুযায়ী রামি, পোকার এবং ক্যারামের মতো স্কিল-ভিত্তিক গেমগুলো জুয়া নয়, বরং একটি বৈধ বাণিজ্যিক কার্যকলাপ। নতুন আইনটি স্কিল এবং চান্স গেমসের মধ্যে পার্থক্য মুছে দিয়েছে, যা অসাংবিধানিক।
অসমানুপাতিকতা: পিটিশনাররা বলছেন যে, আর্থিক ক্ষতি বা আসক্তির মতো সমস্যা সমাধানের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর সমাধান নয়। এর পরিবর্তে, সরকার কেওয়াইসি (KYC) চেক, খরচের সীমা এবং ভোক্তা সুরক্ষার মতো ব্যবস্থা চালু করে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ডিজিটাল ফাইন্যান্সের মতো ক্ষেত্রেও জালিয়াতি থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে শুধু নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
অর্থনৈতিক প্রভাব: এই নিষেধাজ্ঞা শিল্পকে ধ্বংস করে দেবে বলে দাবি করা হচ্ছে। অনলাইন গেমিং শিল্প ২০২৪ সালে ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের ছিল, যা ২০২৯ সাল নাগাদ ৩.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর কথা ছিল। এই শিল্পটি ২ লক্ষের বেশি চাকরি, বার্ষিক ২০,০০০ কোটি টাকার কর এবং ২৫,০০০ কোটি টাকার বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করে। এই আইনকে ‘চাকরি তৈরির শিল্পের মৃত্যুদণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যার ফলে খেলোয়াড়রা অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত অফশোর প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকতে পারে।
এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত রায় গেমিং শিল্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট এই বিতর্কিত আইনের পক্ষে না বিপক্ষে রায় দেয়।