ভারতের ‘স্নেক আইল্যান্ড’ কোথায়? হাজার হাজার বিষধর সাপের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে এই জায়গা!

নীল সমুদ্র সৈকত, চা বাগান, পাহাড় এবং সবুজে ঘেরা জঙ্গল—প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য ঠিকানা কেরল, যা ‘ঈশ্বরের আপন দেশ’ নামেও পরিচিত। বছরজুড়ে লক্ষ লক্ষ পর্যটক এখানে ভিড় করেন। কিন্তু সৌন্দর্যের এই রাজ্যে লুকিয়ে আছে এক ভয়ঙ্কর বিপদ—এখানে রয়েছে ভারতের সবচেয়ে বেশি বিষধর সাপের প্রজাতি।
বিপুল সংখ্যক প্রজাতি: পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেরলে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির সাপ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিষধর, কিছু আবার বিষহীন। ভারতের অন্য কোনো রাজ্যে এত বেশি প্রজাতির সাপের দেখা মেলে না।
অনুকূল পরিবেশ: এখানকার আবহাওয়া এবং পরিবেশ সাপের বসবাসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। পাশাপাশি, জঙ্গলে সাপের প্রিয় খাদ্য, যেমন ছোট ছোট পাখি ও প্রাণী, প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
বর্ষার প্রভাব: বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব আরও বেড়ে যায়। এ সময় প্রায়ই স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে, অফিসে বা দোকানেও সাপ ঢুকে পড়ে। সাপের কামড়ে মৃত্যু বর্ষাকালে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোবরা, ক্রেট, এবং রাসেল ভাইপার-এর মতো বিষধর সাপ ছাড়াও, কেরলে প্রচুর বিষহীন সাপ, যেমন ইন্ডিয়ান র্যাট স্নেক এবং কেরালা কাদা সাপও দেখা যায়। যদিও সাপের উপদ্রব বেশি, তবুও স্থানীয়রা ভয় না পেয়ে বরং অনেক স্থানে সাপকে দেবতা হিসেবে পুজো করেন। নাগদেবতা মন্দিরে সাপের আরাধনা প্রচলিত আছে এবং বহু বাড়িতে নাগদেবতার মূর্তি দেখা যায়।
পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ‘স্নেক আইল্যান্ড’, যেখানে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ
পৃথিবীর কিছু জায়গা একই সঙ্গে অদ্ভুত এবং ভয়ঙ্কর। ব্রাজিলের উপকূলে এমনই একটি দ্বীপ আছে, যার নাম ‘ইলহা দা কুইমাদা গ্র্যান্ড’ বা সাধারণের কাছে ‘স্নেক আইল্যান্ড’ নামে পরিচিত। এই সুন্দর দ্বীপটি পর্যটকদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, এমনকি স্থানীয়রাও এখানে যেতে ভয় পান। এর কারণ হলো, এখানে হাজার হাজার বিষধর সাপের বাস।
দক্ষিণ-পূর্ব ব্রাজিলের সাও পাওলো শহর থেকে প্রায় ৯০ মাইল দূরে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি আকারে খুব বড় নয় (মাত্র ১০৬ একর)। কিন্তু এই ছোট জায়গায় প্রায় ৪,০০০ প্রজাতির বিষাক্ত সাপ থাকে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রায় ১১,০০০ বছর আগে শেষ বরফ যুগের শেষে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যায় এবং এই দ্বীপটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন সাপগুলো সেখানেই আটকা পড়ে। সীমিত খাবারের কারণে তারা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করে এবং ‘সোনালি ল্যান্সহেড’ নামে এক বিশেষ প্রজাতির বিষধর সাপ এখানে প্রধান শিকারীতে পরিণত হয়। এই সাপের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখা যায় না। এই কারণেই এই দ্বীপটি যতটা আকর্ষণীয়, তার চেয়েও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।