ভারতের সিক্রেট ক্যামেরা সোজাসুজি পাকিস্তানে সম্প্রচার! এনআইএ-র জালে ৭ পাক জঙ্গি, ফাঁস চরম নাশকতার ছক

ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলোকে টার্গেট করে এক বিশাল আন্তর্জাতিক নাশকতার ছক বানচাল করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার হওয়া ৭ জনের সঙ্গে পাকিস্তানের কুখ্যাত জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের সরাসরি যোগসূত্রের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ হাতে পেয়েছেন এনআইএ-র গোয়েন্দারা। গোপন নজরদারি সোলার ক্যামেরা বসিয়ে ভারতের সুরক্ষা ব্যবস্থার লাইভ ফুটেজ পাকিস্তানে পাঠানোর মতো বিপজ্জনক তথ্য তদন্তে সামনে আসতেই দেশজুড়ে তোলপাড় পড়ে গেছে।
গত ১ই অক্টোবর তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর ও থানজাবুর এলাকা থেকে এই ৭ জনকে জালে তোলে অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড ও পুলিশ।
কীভাবে ফাঁস হলো এই মেগা জঙ্গি মডিউল?
এই বিশাল আন্তঃরাজ্য ও আন্তর্জাতিক র্যাকেটের সুতোটি প্রথম ধরা পড়ে উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াডের (ATS) হাতে। দিল্লির ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশনে গোপনে নজরদারি ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে মকসুদ আলি (২১) নামে এক ব্যক্তিকে কোয়েম্বাটোর থেকে দিনমজুরের ছদ্মবেশে থাকা অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়।
মকসুদকে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে গিয়ে জেরা করতেই সে উগরে দেয় মূল সত্য। সে স্পষ্ট জানায়, পাকিস্তানে বসে থাকা আইএসআই সমর্থিত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী শাহজাদ ভাট্টির নেটওয়ার্কের সঙ্গে সে সরাসরি যুক্ত এবং তামিলনাড়ু ও কর্ণাটকে ছড়িয়ে রয়েছে এই নেটওয়ার্কের একাধিক স্লিপার সেল। আলির দেওয়া ক্লু ধরে থানজাবুর ও কর্ণাটক থেকে ধরে ফেলা হয় আরও ৮ জনকে। ধৃতদের মধ্যে ইয়াসের আব্দুল, উমর মুখতার, জাকির হোসেন, আব্দুল, শেখ ফরিদ এবং শামসুদ্দিনকে থানজাবুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।
অভিযানে বাজেয়াপ্ত নথিপত্র ও নিষিদ্ধ মেটেরিয়াল
ধৃতদের বাড়ি ও গোপন আস্তানায় এনআইএ-র আধিকারিকরা ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালান। অভিযানে উদ্ধার হয়েছে:
২০টিরও বেশি চরমপন্থী ভাবধারার বই
একাধিক ল্যাপটপ, পেন ড্রাইভ এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন
নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ‘হিজব-উত-তাহরির’ এবং অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কিছু বিতর্কিত নথি।
কে এই শাহজাদ ভাট্টি এবং কী তার বিপজ্জনক ছক?
এনআইএ সূত্রের খবর, পাকিস্তানি নাগরিক শাহজাদ ভাট্টি প্রথমে একাধিক সমাজবিরোধী অপরাধ ও আন্তর্জাতিক মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর সরাসরি মদতে সে একটি বিশাল সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে। ড্রেন ব্যবহার করে ভারত-পাক সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও তামাক-মাদক চোরাচালানের প্রধান কারিগর এই ভাট্টি।
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ধৃতদের মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ভারতের একাধিক স্পর্শকাতর ধর্মীয় স্থান ও মূল সেনা/নিরাপত্তা ঘাঁটিতে সোলারচালিত গোপন ক্যামেরা বসানো। সেই ক্যামেরার সাহায্যে ছবি ও লাইভ ফুটেজ সরাসরি পাকিস্তানে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল!
ব্রেনওয়াশ ও তরুণদের অর্থ জোগানের র্যাকেট
এনআইএ-র পৃথক জেরায় উঠে এসেছে, অভিযুক্তরা অনলাইনে বিশেষ এনক্রিপ্টেড চ্যাট ও সরাসরি গোপন বৈঠকের মাধ্যমে তামিলনাড়ুর স্থানীয় তরুণদের মগজধোলাই (Brainwash) করত। তরুণদের চরমপন্থায় দীক্ষিত করে নাশকতামূলক কাজের জন্য তৈরি করা এবং তাদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কাজ চলত এই মডিউলের মাধ্যমে।
বর্তমানে এই ধৃত ৭ জন এবং তাদের আশ্রয়দাতা ও আর্থিক মদতদাতাদের খোঁজে সমগ্র দক্ষিণ ভারতজুড়ে বিশাল তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে এনআইএ।