ভারতের শেয়ার বাজারে টাকার বন্যা! ১০ বিলিয়ন ডলারের তহবিলে ভাঙল অতীতের সব রেকর্ড

ভারতীয় পুঁজি বাজারের ইতিহাসে আগস্ট মাসটি এক নতুন ও অভাবনীয় অধ্যায় হিসেবে সংযোজিত হয়েছে। সমস্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে এই মাসে ভারতীয় শেয়ার বাজারে তহবিল সংগ্রহের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ ৯৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকারও বেশি বিপুল পরিমাণ ইক্যুইটি প্রবাহের কারণে এই মাসটি ভারতীয় পুঁজি বাজারের ইতিহাসে অন্যতম সফল এবং বৃহত্তম তহবিল সংগ্রহের মাস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

মেইনবোর্ড আইপিও থেকে শুরু করে কোয়ালিফাইড ইনস্টিটিউশনাল প্লেসমেন্ট বা কিউআইপি এবং বড় প্রোমোটার ব্লক ডিল—সব মিলিয়ে তারল্যের এই বিশাল জোয়ার কেবল বাজারকে এক নতুন উচ্চতাতেই নিয়ে যায়নি, বরং বিশ্বজুড়ে চলা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারতীয় অর্থনীতি এবং কর্পোরেট সেক্টরের শক্তিশালী ও মজবুত ভিতকে পুনরায় প্রমাণ করেছে।

চলতি মাসের এই রেকর্ড-ভাঙ্গা প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভারতের ইক্যুইটি পুঁজি বাজার তার সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্সের দিকে দ্রুত এগিয়ে চলেছে। যদিও সামগ্রিক শেয়ার বাজারে কিছুটা মন্থর ভাব লক্ষ্য করা গেছে, তবুও অভ্যন্তরীণ তারল্যের প্রাচুর্য নতুন শেয়ারের চাহিদা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগস্ট মাসে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এলআইসি-র ৩.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের শেয়ারের একটি বিরাট বিক্রির ঘটনাও শামিল রয়েছে। পাশাপাশি, মণিপাল হেলথ এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের ৯৫৮ মিলিয়ন ডলারের আইপিও এবং বেশ কয়েকটি ব্লক ট্রেড ও প্রাতিষ্ঠানিক প্লেসমেন্ট এই পরিসংখ্যানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ মিউচুয়াল ফান্ড এবং বীমা সংস্থাগুলির ক্রমবর্ধিষ্ণু আধিপত্য, খুচরা বিনিয়োগকারীদের অত্যন্ত শক্তিশালী অংশগ্রহণ এবং গ্লোবাল ফান্ডগুলির পুনরায় প্রত্যাবর্তন এই বিশাল পরিমাণ লেনদেনকে সফলভাবে চালিত করেছে। এই সমস্ত ইতিবাচক কারণগুলি একত্রে বড় আকারের অফারগুলো সহজে গ্রহণ করার জন্য বাজারের ধারণক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। এই বাজারের অন্তর্নিহিত শক্তি চলতি বছরের শেষভাগে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেডের মতো বড় অফারগুলোর জন্যও নতুন গতির সঞ্চার করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, এই দুর্দান্ত উল্লম্ফন ভারতের ৫.১ ট্রিলিয়ন ডলারের সেকেন্ডারি মার্কেটের অপেক্ষাকৃত মন্থর পারফরম্যান্সের সঙ্গে এক তীব্র বৈপরীত্য তৈরি করেছে, যা চলতি বছরে এই খাতের অন্যতম পিছিয়ে থাকা অংশ হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছে। যদিও বেঞ্চমার্ক এনএসই নিফটি ৫০ সূচক বিগত দুই বছরের স্তর থেকে খুব একটা বেশি পরিবর্তিত হয়নি, তবুও বিনিয়োগকারীরা নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির শেয়ারে প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করেছেন। আগস্ট মাসে তালিকাভুক্ত হওয়া ২৪টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র চারটি বাদে বাকি সবকটি কোম্পানিই তাদের ইস্যু মূল্যের অনেক উপরে লেনদেন করছে।

মুম্বাই-ভিত্তিক খাম্বাট্টা সিকিউরিটিজ লিমিটেডের গ্রুপ চিফ এক্সিকিউটিভ সুনীল শাহ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলি বাণিজ্য সংক্রান্ত নানা জটিলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট দ্বিধা সফলভাবে কাটিয়ে উঠেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু কোম্পানি তাদের নির্ধারিত চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কম মূল্যায়ন বা ভ্যালুয়েশন মেনে নিতেও পিছপা হয়নি। সবমিলিয়ে, এই রেকর্ড প্রবাহ ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আগামী দিনে দেশের পুঁজিবাজারকে এক দারুণ সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে।