ভাঙড়ে ফের চরম অশান্তি! দল ছাড়তেই আরাবুল ইসলামের গাড়িতে হামলা ও ‘চোর’ স্লোগানের অভিযোগে শোরগোল

ভাঙড় রাজনীতিতে ফের চরম উত্তেজনা। সদ্য আইএসএফ (ISF) ত্যাগের ঘোষণা করার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই এলাকা। গত কয়েকদিন ধরে পর পর আরাবুল ইসলামের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জেরে সোমবার ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতি চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়, যা সামাল দিতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করতে হয়।

সূত্রের খবর, দলবদলের ঘোষণা এবং এর পরেই ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনার আবহে সোমবার দুপুরে ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতিতে নিজের দফতরে আসেন আরাবুল ইসলাম। তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসেবে নিজের ঘরে বসার পরেই বাইরে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। অশান্তির আশঙ্কায় বিজয়গঞ্জ থানার পুলিশ আগে থেকেই গোটা চত্বরে ব্যাপক পুলিশি বন্দোবস্ত করেছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষ ও বাইরের লোকজনের বিডিও অফিসে প্রবেশেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আইএসএফ কর্মীদের চাপে ও পুলিশের অনুরোধে আরাবুল ইসলাম পঞ্চায়েত সমিতি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে তিনি বাইরে আসতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। স্থানীয় সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় আরাবুলের গাড়িতে পাথর ছুঁড়ে হামলা চালানো হয়। এই আকস্মিক ঘটনায় পঞ্চায়েত সমিতি চত্বরে মুহূর্তের মধ্যে চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথেও আরাবুলের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ও বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল। পরপর এই ধরনের হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, ভাঙড়ের বিধায়ক ও আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী এই হামলা প্রসঙ্গে বলেন যে, এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং তা সম্পূর্ণ নিন্দনীয়। তবে তিনি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দল ছাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে এবং এর পেছনে অন্য কোনো স্বার্থ বা অন্তর্ঘাত কাজ করে থাকতে পারে। পুলিশ পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।