“একজনও যোগ্য মহিলা বাদ যাবেন না”—অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় আশ্বাস শমীক ভট্টাচার্যের

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে চর্চিত বিষয়গুলির একটি হলো ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। এই প্রকল্প ঘিরে রাজ্যজুড়ে নানা জল্পনা ও ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যেই এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্পের অধীনে রাজ্যের একজন যোগ্য মহিলাও সুবিধার বাইরে থাকবেন না। সরকারের সরাসরি প্রতিনিধি না হলেও, সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দুঃখ-কষ্টের কথা এবং দলের সংকল্পপত্রের প্রতিশ্রুতি সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার এক বিশেষ প্রেস বিবৃতিতে শমীক ভট্টাচার্য বলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই অতীতে ঘোষণা করেছেন যে আরও প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ মহিলা খুব শীঘ্রই অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সুবিধা পেতে চলেছেন। অতীতে বিগত সরকারের আমলে অনেক পুরুষও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো মহিলাকেন্দ্রিক প্রকল্পের সুবিধা পেতেন বলে অভিযোগ তুলে তিনি জানান যে বর্তমান সরকার সেই সমস্ত ত্রুটি দূর করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছে। তবে অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত বর্তমান বিভ্রান্তি অত্যন্ত অনভিপ্রেত বলে উল্লেখ করে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, আসন্ন দুর্গাপুজোর মধ্যেই সমস্ত যোগ্য মহিলা তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন হাজার টাকা করে সরাসরি পেয়ে যাবেন।
বিশেষ করে কাদের জন্য এই প্রকল্পের দরজা উন্মুক্ত, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখাও তুলে ধরেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে সমস্ত মহিলারা ইনকাম ট্যাক্স বা আয়কর দেন না, যাঁরা সরকারি চাকুরিজীবী নন এবং যাঁদের সরকারের তরফ থেকে অন্য কোনও নির্দিষ্ট উপার্জনের উৎস নেই, তাঁরা প্রত্যেকেই এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন। এই নিয়মের বেড়াজালে পড়ে প্রকৃত কোনো যোগ্য উপভোক্তা যেন বঞ্চিত না হন, সেদিকেও প্রশাসন কড়া নজর রাখছে বলে তাঁর দাবি। সরকারের এই নীতি সর্বজনীন এবং এটি কোনোভাবেই বিভাজনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে তাঁর মন্তব্য।
এর আগে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন যে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে প্রয়োজনে এই সংখ্যায় আরও কুড়ি থেকে ত্রিশ লক্ষ মহিলাকে যুক্ত করা হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই সংখ্যাকে আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যখন প্রকল্পের নাম করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধন্দ ও ক্ষোভ বাড়ছে, ঠিক তখনই বিজেপি নেতৃত্বের এই সুনির্দিষ্ট আশ্বাস কতটা স্বস্তি আনে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।