ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে বিপ্লব, আসছে নতুন প্রজন্মের ব্রহ্মোস-এনজি, যা কাঁপাবে বিশ্ব,

ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্রহ্মোস এবার আরও আধুনিক ও ভয়ংকর হতে চলেছে। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং বিশ্বজুড়ে রপ্তানি ত্বরান্বিত করতে ব্রহ্মোস অ্যারোস্পেস এক বড় ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
সূত্র বলছে, নতুন ব্রহ্মোস-এনজি (নেক্সট জেনারেশন) ক্ষেপণাস্ত্র ২০২৬ সালের মধ্যে পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, রাশিয়াও এই ক্ষেপণাস্ত্র তাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ দেখিয়েছে। কোম্পানিটির ডেপুটি সিইও চিলুকোটি চন্দ্রশেখর জানিয়েছেন, “অপারেশন সিঁদুরে ব্রহ্মোসের নির্ভুলতা ও প্রাণঘাতী ক্ষমতা দেখে রাশিয়া প্রভাবিত হয়েছে এবং তারা এই ক্ষেপণাস্ত্র কেনার কথা ভাবছে।”
কেন ব্রহ্মোস-এনজি এত বিশেষ?
নতুন এই ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রটি তার বর্তমান মডেলের চেয়ে অনেক বেশি হালকা এবং ছোট হবে, যা এর কার্যকারিতা আরও বাড়িয়ে তুলবে:
ওজন হ্রাস: স্ট্যান্ডার্ড ব্রহ্মোসের ওজন ৩,০০০ কেজি, কিন্তু ব্রহ্মোস-এনজি’র ওজন হবে ১,২৫০ কেজির কম।
বহনযোগ্যতা: হালকা হওয়ায় এটি LCA Tejas এবং MiG-29-এর মতো হালকা যুদ্ধবিমান থেকেও সহজে নিক্ষেপ করা যাবে।
লক্ষ্যভেদ: এটি সর্বোচ্চ নির্ভুলতার সাথে ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
সার্বক্ষণিক ব্যবহার: এটি স্থল, আকাশ, এবং সমুদ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা যাবে। এমনকি সাবমেরিন থেকে ছোড়ার বিকল্পও যুক্ত করা হচ্ছে।
উৎপাদন বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক চাহিদা
গত ২৫ বছরে মাত্র ১,০০০টি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি হয়েছে, যার কারণে এর দাম বেশি। এখন উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দাম কমানো হবে, যা এটিকে আরও বেশি দেশের কাছে সহজলভ্য করবে। এর মধ্যেই ১৪টি দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে। ফিলিপাইন ইতিমধ্যেই চীনকে মোকাবিলা করার জন্য ভারত থেকে এটি কিনেছে।
রাশিয়ান সংস্থা এনপিও মাশিনোস্ট্রোয়েনিয়া ব্রহ্মোস-এনজি’র জন্য নতুন র্যামজেট ইঞ্জিন তৈরি করছে। এটি ক্ষেপণাস্ত্রকে হালকা করলেও এর গতি এবং ক্ষমতা একই রকম রাখবে। সব মিলিয়ে, এই নতুন প্রজন্মের ব্রহ্মোস-এনজি ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং ভারতকে বিশ্বের বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারকদের তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নিতে সাহায্য করবে।