ভারত এক নতুন পরমাণু যুগের দ্বারপ্রান্তে। তামিলনাড়ুর কল্পক্কমে অবস্থিত ভারতের প্রথম ‘প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর’ (PFBR) সফলভাবে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করেছে। এই মাইলফলকটি কেবল একটি বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়, বরং ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে শক্তি স্বনির্ভর হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। ৫০০ মেগাওয়াটের এই রিঅ্যাক্টরটি ভারতীয় ন্যাবিকীয় বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড (ভাভিনি) দ্বারা পরিচালিত।
এই রিঅ্যাক্টরের বিশেষত্ব হলো এর ‘সোডিয়াম-কুলড ফাস্ট ব্রিডার’ প্রযুক্তি। এটি যতটা জ্বালানি খরচ করবে, তার চেয়েও বেশি জ্বালানি উৎপাদন করতে সক্ষম। এর মাধ্যমেই ভারত তার তিন-স্তরের পারমাণবিক কর্মসূচির দ্বিতীয় স্তরে সফলভাবে প্রবেশ করল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অর্জনকে দেশের নিউক্লিয়ার যাত্রায় এক ‘ডিফাইনিং স্টেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়ে লিখেছেন, এটি ভারতের বৈজ্ঞানিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতার এক অনন্য নিদর্শন।
কেন এই সাফল্য এত গুরুত্বপূর্ণ? ভারত বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ থোরিয়াম ভাণ্ডারের অধিকারী। এই ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টরটি ইউরেনিয়াম থেকে প্লুটোনিয়াম তৈরি করবে, যা ভবিষ্যতে থোরিয়াম-ভিত্তিক রিঅ্যাক্টর চালানোর পথ প্রশস্ত করবে। এতে বর্জ্য কম হবে এবং পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। ২০০৪ সালে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ লড়াইয়ে আজ ভারত বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল।





