ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিল ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF)। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্রজেক্ট কুশা’-র পাঁচটি স্কোয়াড্রন সংগ্রহের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) নির্মিত এই লং রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (LRSAM) সিস্টেমটি ভারতের জন্য রাশিয়ার এস-৪০০-এর দেশীয় বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এই প্রকল্পের অনুমোদন পাওয়ায় ভারতের সামরিক সক্ষমতা কয়েক গুণ বেড়ে গেল বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
কেন এই প্রজেক্ট কুশা এত গুরুত্বপূর্ণ? প্রজেক্ট কুশা এমন একটি ব্যবস্থা যা ৩৫০ কিলোমিটার দূর থেকেই শত্রুপক্ষের স্টিলথ ফাইটার জেট, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল এবং নজরদারি বিমান শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম। এটি মূলত তিন স্তরের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল নিয়ে গঠিত, যা ১৫০, ২৫০ এবং ৩৫০ কিলোমিটার রেঞ্জে লক্ষ্যভেদ করতে পারে। বিশেষ বিষয় হলো, এর হিট প্রোবাবিলিটি বা নির্ভুলতা আন্তর্জাতিক মানের আইরন ডোম (Iron Dome) বা প্যাট্রিয়ট (Patriot) সিস্টেমের সমকক্ষ।
চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে কড়া নজরদারি: সূত্রের খবর অনুযায়ী, বায়ুসেনা যে পাঁচটি স্কোয়াড্রন সংগ্রহ করছে, সেগুলি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলএসি (LAC) এবং এলওসি (LoC) বরাবর মোতায়েন করা হবে। এর ফলে আকাশপথে যে কোনও অনুপ্রবেশের চেষ্টা সেকেন্ডের মধ্যেই রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। এই প্রজেক্টের মোট অর্থমূল্য প্রায় ২১,০০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হওয়ায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযান এক নয়া গতি পাবে।
পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে উৎপাদনে: আগামী ২০২৮-২৯ সালের মধ্যেই এই সিস্টেমের মোতায়েন শুরু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর রাডার সিস্টেম এবং লঞ্চার কন্ট্রোল ইউনিটগুলোর চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। ডিআরডিও-র বিজ্ঞানীদের দাবি, প্রজেক্ট কুশা শুধু ভারতের প্রতিরক্ষাই মজবুত করবে না, বরং ভবিষ্যতে অন্যান্য বন্ধুরাষ্ট্রের কাছে রপ্তানির পথও প্রশস্ত করবে।