ভারতের দীর্ঘতম রেল টানেল! উত্তরাখণ্ডে সম্পূর্ণ হলো ১৪.৫৭ কিমি দীর্ঘ সুড়ঙ্গের নির্মাণ কাজ

উত্তরাখণ্ডের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। জানস্যু এবং দেবপ্রয়াগের মধ্যে ১৪.৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারতের দীর্ঘতম রেল টানেলের নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। এই কঠিন ভূখণ্ডে কাজ করতে গিয়ে প্রকৌশলী ও শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমের কথা তুলে ধরেছে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড। এই সুড়ঙ্গের নির্মাণে প্রথমবারের মতো হিমালয়ে টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ব্যবহার করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই টানেল নির্মাণে টিবিএম মেশিন ব্যবহার করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। টিবিএম অপারেটর বলজিন্দর সিং জানান, কাজের সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল হঠাৎ ভূমিধস, যা সুড়ঙ্গের প্রায় ৩.৫ কিলোমিটার পথ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “সাধারণত আমরা ৫০,০০০ থেকে ৬০,০০০ কিলো নিউটন শক্তি দিয়ে টিবিএম চালাই, কিন্তু ভূমিধসের কারণে ধ্বংসাবশেষ সরাতে আমাকে মেশিনের সম্পূর্ণ শক্তি অর্থাৎ ১,৩০,০০০ কিলো নিউটন প্রয়োগ করতে হয়েছিল।” তার সহকর্মী রাম অবতার সিং রানা জানান, তারা টানা ১২ ঘণ্টার শিফটে ১০ দিন কাজ করে সেই বাধা দূর করেছেন।

এই টানেলটি ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঋষিকেশ-কর্ণপ্রয়াগ রেল সংযোগ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সুড়ঙ্গটি হিমালয়ের কঠিন ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে যাবে এবং চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, পৌরি গাড়োয়াল, তেহরি গাড়োয়াল এবং দেরাদুনের মতো একাধিক জেলাকে সংযুক্ত করবে। এটি রাজ্যের সমতল এবং পাহাড়ি অঞ্চলের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে প্রমাণিত হবে।

এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে রেলপথে পর্যটন ও তীর্থস্থানগুলিতে যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং উত্তরাখণ্ড ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগও উন্নত হবে।

পীর পাঞ্জাল রেল টানেল: ১১.২১৫ কিমি দীর্ঘ, যা জম্মু-বারামুল্লা লাইনের অংশ।

সাঙ্গালদান রেলওয়ে টানেল: ৭.১ কিমি লম্বা, যা কাটরা-বানিহাল অংশের মধ্যে অবস্থিত।

রাপুরু রেলওয়ে টানেল: অন্ধ্রপ্রদেশের নেলোরে অবস্থিত, ৬.৭ কিমি লম্বা।

কারবুদে টানেল: মহারাষ্ট্রের কোঙ্কন রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ, ৬.৫ কিমি লম্বা।

মালিগুড়া টানেল: ওড়িশায় অবস্থিত, ৪.৪২ কিমি দীর্ঘ।