ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েও একি শর্ত দিলেন ড. ইউনুস? তোলপাড় দুই দেশ!

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় সূচনা করতে চাইছে। তবে এই বন্ধুত্বের প্রস্তাবটি কোনো শর্তহীন সমীকরণ নয়, বরং এতে জড়িয়ে আছে গভীর কূটনৈতিক দাবি ও পারস্পরিক সম্মানের প্রশ্ন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন এই সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভারতের সঙ্গে তারা সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, কিন্তু সেই সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে সমমর্যাদা এবং ন্যায্য অংশীদারিত্ব।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, নতুন সরকার সেটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিগত সরকারের আমলে ভারতের সাথে যে একতরফা বন্ধুত্বের অভিযোগ উঠেছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসে এখন থেকে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি এবং সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

নয়াদিল্লির প্রতি ঢাকার বার্তা পরিষ্কার—অতীতের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো সমাধান না করে সম্পর্কের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং সেখান থেকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা নিয়েও অস্বস্তিতে রয়েছে ঢাকা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত যদি বাংলাদেশের জনআকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনে, তবেই এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন স্থিতিশীলতা আসবে। ভারতও ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নিতে চায়। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এই দরকষাকষির টেবিলে শেষ পর্যন্ত কার পাল্লা ভারী হবে?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy