ভারতের জন্য সুখবর! হরমুজ প্রণালীতে শুধুমাত্র আমেরিকা-ইজরায়েল নিষিদ্ধ, তেলের যোগান কি স্বাভাবিক হবে?

বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যখন হাহাকার, ঠিক তখনই ভারতের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর এল পারস্য উপসাগর থেকে। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী শুধুমাত্র আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইউরোপের দেশগুলির জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, ভারত বা চিনের মতো দেশগুলির তেলবাহী জাহাজ চলাচলে সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকছে না।

কেন এই স্বস্তি? ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি আমদানি করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যার একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। গত কয়েকদিন ধরে আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের আবহে এই পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যায়। কিন্তু ইরানের সাম্প্রতিক ঘোষণায় ভারত আশার আলো দেখছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ইরান চাইছে ভারত বা চিনের মতো বাণিজ্যিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রাখতে, যাতে অর্থনৈতিক চাপ সামলানো যায়।

সতর্কতা ও চ্যালেঞ্জ ইরান পথ খুলে দিলেও ঝুঁকি কিন্তু পুরোপুরি কমেনি। যুদ্ধের আবহে সমুদ্রপথে বিমার খরচ (Insurance Premium) কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া, অনেক জাহাজ সংস্থা এখনও এই পথে যাতায়াত করতে ভয় পাচ্ছে। তবে ভারত ইতিমধ্যেই রাশিয়ার থেকে তেল আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে, যাতে কোনোভাবেই দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়।

কূটনৈতিক জয়? ইরানের এই সিদ্ধান্তে ভারতের বিদেশনীতির বড় জয় দেখছেন অনেকেই। ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা শুধুমাত্র ‘শত্রু’ রাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের জাহাজই টার্গেট করবে। ভারতের সঙ্গে ইরানের ঐতিহাসিক সুসম্পর্ক থাকায় তেলের ট্যাঙ্কারগুলো নিরাপদে যাওয়ার সবুজ সংকেত পেতে পারে। এখন দেখার, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত কত দ্রুত তার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy