ভারতের কৃষিতে বাম্পার ফলনের হাতছানি! দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমে ৮% অতিরিক্ত বৃষ্টিতে রেকর্ড, কৃষকদের মুখে হাসি

ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গত চার মাসের দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ষাকালে ৮% অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড গড়ল। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) মঙ্গলবার এই তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, দেশের কৃষি-নির্ভর মনসুন কোর জোন বা রেইনফেড অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী গড়ের (এলপিএ) ১২২% বৃষ্টি হয়েছে।

এই সুসংবাদ দেশের কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাতে চলেছে, যা খাদ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় বড় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রেকর্ড গড়ল রেইনফেড অঞ্চল
দেশের অর্ধেকেরও বেশি কৃষিভূমি অবস্থিত যে অঞ্চলে, সেই রেইনফেড অঞ্চলে এই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত কৃষির জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এই অঞ্চলটি মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাতসহ কয়েকটি রাজ্যের অংশ নিয়ে গঠিত।

সময়মতো আগমন: এবারের বর্ষা কেরলে স্বাভাবিক তারিখের (১ জুন) আট দিন আগে, ২৪ মে পৌঁছে যায়। ২০০৯ সালের পর এটিই সবচেয়ে দ্রুত আগমন।

অঞ্চলভিত্তিক বৃদ্ধি: উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ২৭% অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভারতে ১১৯% এবং দক্ষিণ উপদ্বীপে ১১৪% বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২০% কম বৃষ্টি হয়েছে, যা কিছুটা উদ্বেগের কারণ।

খরিফ ফসলে বাম্পার ফলনের ইঙ্গিত
ভারতের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো কৃষি। এই ভালো বৃষ্টির কারণে খরিফ ফসলের বপন এলাকা ব্যাপকভাবে বেড়েছে:

বপন বৃদ্ধি: কৃষি মন্ত্রকের তথ্যমতে, ধানের বপন এলাকা ৫%, ডাল ৮% এবং আখ ৪% বেড়েছে। এতে ফসল উৎপাদন বাড়বে, যা বাজারে খাদ্যমূল্য হ্রাস করতে সাহায্য করবে।

অর্থনৈতিক প্রভাব: আগস্টে খাদ্য মূল্যসূচক ইতিমধ্যে ০.৭% নেতিবাচক হয়েছে। এখন সরকার গম ও চিনির রফতানি নীতিতে শিথিলতা এনে কৃষকের আয় বাড়াতে পারে।

এছাড়াও, এই বৃষ্টি গ্রাউন্ডওয়াটার রিচার্জ করবে, জলসম্পদ বাড়াবে এবং হাইড্রোপাওয়ার উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বর্ষা জলবায়ু পরিবর্তনের মধ্যেও একটি ইতিবাচক সংকেত।

ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ল
তবে এই অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বন্যা, ভূমিধস এবং অবকাঠামো ক্ষতির ঝুঁকিও বেড়েছে। গত বছরগুলোর তুলনায় এবার ২,৬৩২টি ভারী বৃষ্টির ঘটনা এবং ৪৭৩টি অত্যধিক ভারী বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশে বন্যায় ক্ষতি হলেও, সামগ্রিকভাবে লাভ বেশি হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকার এখন কৃষকদের জন্য বীজ, সার এবং ঋণের সুবিধা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে।