বিজয়ার মিষ্টিমুখ! হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী ‘এলো ঝেলো গজা’-র সহজ রেসিপি, দোকানের মিষ্টিকে হার মানাবে

বিজয়া দশমী মানেই মন খারাপের সুর। মা ফিরে যান কৈলাসে, কিন্তু বাঙালির রীতিনীতি অনুযায়ী এই দিনে মিষ্টিমুখ করা অতি বাঞ্ছনীয়। আত্মীয়, বন্ধু ও পরিচিতদের সমাগমে বাজার থেকে কেনা মিষ্টির পাশাপাশি হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী বাংলার কোনো মিষ্টি রাখলে উৎসবের স্বাদই বদলে যায়।
তাই, বিজয়ার এই বিশেষ দিনে তৈরি করে ফেলুন বাংলার প্রায় হারিয়ে যাওয়া সেই বিশেষ মিষ্টি— এলো ঝেলো গজা। এই রেসিপি গাজাকে করে তুলবে খাস্তা এবং মচমচে।
উপকরণ তালিকা
ময়দা: ৪ কাপ
নুন: অর্ধেক টেবিল চামচ
ঘি: ৩ টেবিল চামচ
চিনি: ১ কাপ
জল: ১ কাপের সামান্য কম (ডো এবং সিরা দুটির জন্য)
তেল: ২ কাপ (ভাজার জন্য)
এলাচ: ৪টি
লেবু: ১ টুকরো
ধাপে ধাপে তৈরি করুন এলো ঝেলো গজা
১. শক্ত মণ্ড তৈরি
একটি পাত্রে ৪ কাপ ময়দা, অর্ধেক টেবিল চামচ নুন এবং ৩ টেবিল চামচ ঘি নিন। ঘি আপনার গজাকে খাস্তা ও মচমচে করে তুলতে সাহায্য করবে। সব উপকরণ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে ময়ান দিয়ে নিন। লুচি বা রুটির মণ্ডর তুলনায় এটি একটি শক্ত মণ্ড হবে। এবার এতে ১ কাপ জল মিশিয়ে মেখে নিন। মণ্ড তৈরি হয়ে গেলে এটি ৩০ মিনিট ঢাকা দিয়ে রাখুন।
২. চিনির সিরা তৈরি
একটি কড়াইয়ে ১ কাপ চিনি এবং ১ কাপের থেকে সামান্য কম জল নিয়ে নিন। এই জলের মধ্যে ৪টি এলাচ ও ১ টুকরো লেবু দিয়ে দিন। জল ফুটে উঠলে সিরা তৈরি করে নিতে হবে। সিরা তৈরি করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সেটি খুব বেশি ঘন বা খুব বেশি পাতলা না হয়। বেশি ঘন হলে গজা নরম হয়ে যাবে, আর বেশি পাতলা হলে মিষ্টি ঠিকমতো ধরবে না।
৩. গজার আকার তৈরি
এবার মণ্ডটি ফের একবার ভালো করে মেখে ছুরি দিয়ে কেটে লেচি তৈরি করে নিন। এই লেচিগুলিকে লুচির মতো করে বেলে নিন। এবার বেলনটিকে ধরে মাঝে মাঝে ছুরি দিয়ে ১ সেন্টিমিটার ফাঁক রেখে চিরে নিন। খেয়াল রাখবেন, ছুরি যেন বেলার ধারের দিক পর্যন্ত না পৌঁছায়। এরপর এটিকে এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত রোলের মতো মুড়িয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে গজার এলো ঝেলো আকৃতি।
৪. ভাজা ও সিরায় ডোবানো
একটি কড়াইয়ে তেল গরম করুন। তেল অতিরিক্ত গরম যেন না হয়। মাঝারি আঁচে গজাগুলি সোনালী হওয়া পর্যন্ত ভেজে নিন। গজাগুলি ভাজা হয়ে গেলে গরম থাকা অবস্থাতেই চুবিয়ে দিন তৈরি করে রাখা চিনির সিরায়। কিছুক্ষণ সিরায় ডুবিয়ে রাখার পর তুলে নিলেই তৈরি আপনার এলো ঝেলো গজা।
এই বিজয়া দশমীতে ঘরে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ আপনার আত্মীয়-বন্ধুদের মুগ্ধ করবেই।