ভারতের কাছে মাথা নোয়াল মার্ক জাকারবার্গের মেটা! হঠাৎ কেন এই নতিস্বীকার?

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নির্যাতন এবং নানা ধরনের ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানো সম্পূর্ণভাবে রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক কড়া অবস্থান ও কঠোর হুঁশিয়ারির মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করল বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থা ‘মেটা’ (Meta)। সাইবার অপরাধ দমন এবং শিশুদের ডিজিটাল সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবার থেকে সরাসরি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইন্ডিয়ান সাইবারক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার’ (I4C)-এর পরিচালিত জাতীয় সাইবার অপরাধ পোর্টালে সমস্ত তথ্য ও রিপোর্ট জমা দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে তারা। ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সরাসরি অপরাধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে দেওয়ার এই অঙ্গীকার করে প্রথম আন্তর্জাতিক সমাজমাধ্যম সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের এই মাদার অর্গানাইজেশন।
মেটার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তাঁদের প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা সংস্থার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করতে তাঁরা ভারত সরকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘‘এই ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই আরও জোরদার করতেই মেটা এখন থেকে সরাসরি I4C পরিচালিত সাইবার অপরাধ পোর্টালে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয়গুলি রিপোর্ট করবে।’’ উল্লেখ্য, এতদিন পর্যন্ত ভারতে শিশু নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত যে কোনও অপরাধের সুনির্দিষ্ট তথ্য কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়েটেড চিলড্রেন’ (NCMEC)-কে রিপোর্ট করত মেটা।
বিগত কয়েক মাস ধরে সাইবার মাধ্যমে ডিপফেক, অবমাননাকর কনটেন্ট এবং শিশু যৌন নিপীড়নমূলক তথ্য (CSEAM) ছড়ানো নিয়ে সমাজমাধ্যমগুলির ওপর নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিশেষ করে গত জুলাই মাসে ইনস্টাগ্রামে টাকার বিনিময়ে প্রকাশিত একাধিক বিজ্ঞাপনে শিশু যৌন নির্যাতনের প্রচার চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠতেই মেটাকে অত্যন্ত কড়া আইনি নোটিস পাঠায় কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। সমস্ত আপত্তিজনক বিজ্ঞাপন অবিলম্বে বন্ধ করার কঠোর নির্দেশের পাশাপাশি মন্ত্রকের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়াগুলিকে অতীতে দেওয়া আইনি রক্ষাকবচ বা ‘সেফ হারবার’ সুবিধা কোনও অবস্থাতেই প্রযোজ্য হবে না। এমনকি মেটার বিশ্বস্তরের শীর্ষ কর্তাদের সশরীরে দিল্লিতে তলব করে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল যে, ভারতের সার্বভৌম আইন অমান্য করলে তা বরদাস্ত করা হবে না।