বাবার সম্পত্তির পর কি মায়ের সম্পত্তিতেও মেয়েরা সমান ভাগ পান? জানুন ভারতীয় আইনের বড় নিয়ম!

সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিবাদ এবং ভাই-বোনের সম্পর্ক তিক্ত হওয়ার ঘটনা আজকের দিনে অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। অনেক সময় এই বিরোধ গড়িয়ে আদালত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তাই আইনি জটিলতা এড়াতে এবং কোনও সম্পত্তির উপর কার ঠিক কী ধরনের আইনি অধিকার রয়েছে, তা আগে থেকেই পরিষ্কার জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সাধারণত প্রশ্ন ওঠে, বাবা-মায়ের সম্পত্তির উপর কার আসল অধিকার আছে? মেয়েরা কি বিয়ের পরও বাপের বাড়ির সম্পত্তিতে সমান অধিকার পান? বিশেষ করে মায়ের নিজের নামে থাকা কোনও সম্পত্তিতে সন্তানেরা ঠিক কতখানি ভাগ পেতে পারেন, তা নিয়ে নানা জল্পনা থাকে।
আইন অনুযায়ী, একজন মা যতদিন জীবিত থাকেন এবং তাঁর সম্পত্তির উপর যদি সম্পূর্ণ আইনি মালিকানা থাকে, তবে শুধুমাত্র সন্তান হওয়ার সুবাদে কেউ জোর করে সেই সম্পত্তিতে ভাগ দাবি করতে পারেন না। মা নিজের আয় দিয়ে সম্পত্তি কিনে থাকুন, উপহার হিসেবে পেয়ে থাকুন কিংবা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হয়ে থাকুন—সম্পত্তির উপর তাঁর পূর্ণ ও একচ্ছত্র অধিকার বজায় থাকে। তিনি নিজের স্বাধীন ইচ্ছামতো সেই সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা কাউকে উইল করে দিয়ে যেতে পারেন।
তবে যদি কোনও হিন্দু মা বৈধ কোনো উইল না করে মারা যান, সেক্ষেত্রে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের ১৫ এবং ১৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁর সমস্ত সম্পত্তি ক্লাস ওয়ান বা প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হয়। এই নিয়মে মৃতার স্বামী, ছেলে এবং মেয়েরা প্রত্যেকেই সমান অংশ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মৃত মায়ের সম্পত্তিতে কোনো মেয়ের আইনি অধিকার তাঁর বৈবাহিক অবস্থার উপর একেবারেই নির্ভর করে না। কন্যা সন্তান বিবাহিত হোন, অবিবাহিত হোন কিংবা বিবাহিত জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হোন না কেন, দেশের আইন অনুযায়ী ভাইদের মতো সমানভাবে নিজের বৈধ অংশ দাবি করার পূর্ণ আইনি অধিকার তাঁর রয়েছে।
অন্যদিকে, সাধারণ উত্তরাধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী সৎ মায়ের সম্পত্তিতে সৎ সন্তানদের স্বাভাবিক বা স্বয়ংক্রিয় কোনো উত্তরাধিকার অধিকার থাকে না। তবে যদি ওই সৎ সন্তানকে আইনসম্মতভাবে দত্তক নেওয়া হয়ে থাকে কিংবা মা যদি তাঁর বৈধ উইলে সৎ সন্তানকে স্পষ্টভাবে উত্তরাধিকারী বা সুবিধাভোগী হিসেবে উল্লেখ করে যান, তবেই তাঁরা সম্পত্তির আইনি অধিকার লাভ করতে পারেন।
যদি কোনো মহিলা কোনো সন্তান এবং বৈধ উইল রেখে না মারা যান, তবে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের ১৫(২) ধারায় অত্যন্ত নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের উল্লেখ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি যদি নিজের বাবা-মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে কোনো সম্পত্তি পেয়ে থাকেন, তবে সেই সম্পত্তি তাঁর বাবার উত্তরাধিকারীদের কাছেই পুনরায় ফিরে যায়। একইভাবে, স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি তাঁর স্বামীপক্ষের উত্তরাধিকারীদের কাছেই চলে যায়।
সবমিলিয়ে সম্পত্তির মূল উৎস, বৈধ উইল এবং পরিবারের কাঠামোর উপরেই উত্তরাধিকার পাওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে। তাই আইনি বিধানগুলি আগেভাগে বুঝে নেওয়া সম্পত্তি সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ বিরোধ এড়ানোর প্রধান চাবিকাঠি। নিখুঁত ও স্পষ্ট আইনি নথিপত্র তৈরি থাকলে খুব সহজেই সম্পত্তি হস্তান্তর করা যায়, পারিবারিক সুসম্পর্ক অটুট থাকে এবং প্রতিটি বৈধ উত্তরাধিকারীর আইনসম্মত আর্থিক অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে।